চট্টগ্রাম: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলসহ দেশের জলসীমায় গত ২৫ বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম মিসাইল ফ্রিগেট ‘ওসমান’কে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দেয়া হয়েছে।
শনিবার চট্টগ্রামের নেভাল বার্থে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজটিকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করেন। নৌবাহিনী সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী ও সক্ষম ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরে তার সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র দুটি জাহাজ নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ একটি মর্যাদাশীল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সুপরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে পাওয়া বিশাল সমুদ্র এলাকার সর্বোত্তম ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সমুদ্রসম্পদ আহরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন উদ্দীপনা ও মনোবল নিয়ে নৌবাহিনীর সদস্যদের বিশাল জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা,, নৌবাহিনী-প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিব, ভারপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী-প্রধান, বিমানবাহিনী-প্রধান, সংসদ সদস্য ও সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এর আগে প্রধানমনাত্রী চট্টগ্রামে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান নৌবাহিনী-প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিব।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ওসমান প্রথম মিসাইল ফ্রিগেট হিসেবে ১৯৮৯ সালের ৪ নভেম্বর নৌবহরে সংযোজিত হয়। ২০১০ সালের ১০ মে থেকে জাহাজটি টানা চার বছর United Nations Interim Force in Lebanon (UNIFIL) Gi Maritime Task Force (MTF)-এর অন্যতম জাহাজ হিসেবে ভূমধ্যসাগরে দায়িত্ব পালন করে। এ সময়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত থেকে জাহাজটি ৪৩০ কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। মিশন এলাকায় দায়িত্ব পালন শেষে জাহাজটি গত ১১ আগস্ট বাংলাদেশে ফেরে। বর্তমানে এটি দেশের সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
নৌবাহিনীর এই আধুনিক ফ্রিগেটটিতে রয়েছে বিমান ও জাহাজ বিধ্বংসী কামানসহ সারফেস টু সারফেস মিসাইল, যা শত্রুপক্ষকে সফলভাবে আঘাত করতে সক্ষম। পাশাপাশি এতে সাবমেরিনের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য রয়েছে সোনার এবং সাবমেরিন ধ্বংস করার জন্য রয়েছে এলডিসি ও আরডিসি।