এম আর মহসিন: তিন হাজার কোটি টাকার দেনার দায়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর বন্ধ থাকার পর বিটিএমসি’র তুলা থেকে সুতা তৈরীর নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে। আর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্টরা। এ লক্ষ্যে চলছে কারখানা ভবন, মেশিন ও অবকাঠামো সংস্কারের কাজ। এতে প্রায় ৬ শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান জুটবে। তাই জঙ্গলে ভরপুর, নিঃশব্দ ও জরাজীর্ণ এ মিলে মেশিন ও শ্রমিকের কল-কাকলিতে আবারো ভরে উঠবে এর প্রাঙ্গন। আর স্বচ্ছলতার নতুন স্বপ্ন নিয়ে আবারো শুরু হবে এ মিলে নব নিযুক্ত কর্মজীবি শ্রমিকদের পথচলা।
মিল সুত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে তৎকালিন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে নীলফামারী জেলার দায়োয়ানী নামক স্থানে ১০৮ একর ৩০ শতকের ওপর গড়ে তোলা হয় দারোয়ানী সুগার মিল। যা বাহিরে ৬৯ একর এবং অভ্যন্তরে ৩৯ একর সম্পত্তি রয়েছে। আর প্রাচীর ঘেরা এলাকায় সুগার মিলের কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ১৮টি এবং বাহিরে ১টি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যই প্রশাসনিক দপ্তর, মিল, গোডাউন, নিরাপত্তার অফিস, মসজিদ, ডাকঘর, কর্মকতা ও শ্রমিকদের আবাসস্থল। স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে এ সুগার মিলটি বন্ধ করে বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যায়। ১৮৩২.৭৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এ মিলটিকে রুপান্তরিত করা হয় টেক্সটাইল মিলে। তুলা থেকে সুতা উৎপাদনে এ টেক্সটাইল মিল সরকারি ভাবে বাণিজ্যকরনে যাত্রা শুরু করে ১৯৮০ সালে। প্রায় ৬ শতাধিক শ্রমিকের এ মিলে সরকারের সরবরাহকুত তুলা থেকে সুতা তৈরী করে বিক্রয় করা হয় এজেন্সির কাছে। এতে লোকাসানের কবলে পড়ে দীর্ঘ ১৮ বছর চলার পর এ মিলটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এ মিলটিকে টিকিয়ে রাখতে ১৯৯৮ সালে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতিতে নিয়ে যায় কতৃপক্ষ। এক্ষেত্রে তুলা সরবরাহ করে এজেন্সি এবং তারাই এ সুতা নিয়ে থাকে। আর বিনিময়ে এক বেল সুতা নিয়ে মিল পক্ষের মিলত ৬ হাজার ৮ শত টাকা। আর এ টাকা দিয়ে মিল কর্তৃপক্ষ মেটাত শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যূত বিল, অফিসিয়াল ব্যায়, যন্ত্রাংশের ক্রয় এবং সংস্কারের কাজ। এভাবে চলে ১৩ বছর। এ সময় বাজারে তুলার দর অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় এজেন্সির মালিকরা লোকসানের কবলে পড়ে তারাও এ মিলে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতির ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় ৬০০ শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় নীলফামারীর এ টেক্সটাইল মিল। তবে এডিবির ১০৪.৭৬ লক্ষ এবং বিটিএমসির ৩৩৭১.৯৬ লক্ষ টাকা দেনায় পড়ে যায় এ টেক্সটাইল মিলটি।
সরেজমিনে ওই মিলে গিয়ে দেখা যায়, মিল অভ্যন্তরে সবুজ ঘাসের আচ্ছাদনে ভরপুর। স্টাফ কোয়াটার থেকে সকল স্থাপনার ভিতরে জঙ্গলে পরিপুর্ণ, আনেকগুলোর জানালা-দরজা নেই। যেন ভুতের বাড়ি। মিলের সব দামি যন্ত্রাংশে ধড়েছে মরিচা। এগুলোর বর্তমান বাজার মুল্য প্রায় কযেকশত কোটি টাকা। মিল অভ্যন্তরে গিয়ে কথা হয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শাসুল আলমের সাথে। তিনি জানান, চলতি বছর বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ টেক্সটাইল মিলটি চালুর বিষয়ে সি›দ্ধান্ত হয়। আর এর জন্য প্রযোজনীয় ব্যাবস্থা নিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে মেশিন, স্থাপনা, মিলের ছাদের সংস্কার চলছে। আর চলতি বছরে সার্ভিস চাজ পদ্ধতিতে ১৮টি এজেন্সির সাথে চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহের সিলভি জিনিং ফ্যাক্টরি ২ বছরের জন্য চুক্তি করেছে। তাই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। আর এর জন্য শীঘ্রই শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হবে।
এ নিয়ে কথা হয় নীলফামারী দারোয়ানি টেক্সটাইল মিলের নির্বাহি প্রকৌশলী মোঃ মোজাফ্ফর হোসেনের সাথে। তিনি জানান, এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের স্বার্থে দ্রুত এ মিলটি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এক্ষেত্রে দক্ষ ও পূর্ব অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। কোন সুপারিশ নিয়ে লোকবল নিয়োগ দেয়া হবেনা। আর লাভ-লোকসান বিষয়টি এখনই ভাবা হচ্ছে না।