আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলি কারাগারগুলো যেন আরেক আবু গারিব। সেখানে ফিলিস্তিনি বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা ইরাকে মার্কিন সেনা নিয়ন্ত্রিত আবু গারিব কারাগারের মতোই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আরো ভয়াবহ। ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের নির্যাতনে প্রায় দুইশ’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিটিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলা এবং অণ্ডকোষ মোচড়ে দেয়াসহ বর্বর অনেক নির্যাতন।
সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘের এক প্রতিবেদনে প্রায় দুইশ’র মতো নির্যাতনপদ্ধতি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইসরাইলি মানবাধিকার গ্রুপ বি-সেলেম ১০৫টি পদ্ধতির কথা জানিয়েছে। সংখ্যার বিবেচনা বাদ দিলেও প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর বর্বর নির্যাতনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
জেরুজালেম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর প্রিজনারস অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক ফুয়াদ আবু হাজ উল্লেখ করেছেন- ইসরাইলি জেলে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে ৭৩টি পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়। যেগুলো বর্বর আচরণ এবং মানবাধিকারের মূলনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি বলেন- কোনো প্রমাণ ছাড়াই জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ এর শিকার হয়েছেন রায়েদ আল-জাবারি। তিনি বিশ্বাস করেন, এ নির্যাতনগুলো ইসরাইলি জেলের ব্যবস্থাগত ও গোয়েন্দা সংস্থা স্বীকৃত।
ফুয়াদ আরো জানান, নির্যাতনগুলোর মধ্যে রয়েছে অনেক্ষণ ধরে মারধর করা, গরম পানির পরপরই বন্দীদের আবার ঠাণ্ডা পানিতে রাখা, হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পেছনে অস্ত্র তাঁক করে দরজা বা জানালার সাথে দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখা, চেয়ারে বেঁধে জ্ঞান হারানোর আগ পর্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে পেটাতে থাকা ইত্যাদি। মারধরের ফলে দীর্ঘ মেয়াদে বড় ধরনের অসুখের শিকার হন এসব কয়েদি। আবার মারা যান অনেকে।
ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা বি’ সেলেম তাদের রিপোর্টে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর প্রয়োগ করা নির্যাতনের ১০৫টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছে। যেগুলো মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করা হয়। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিটি এগুলোকে ‘সীমা অতিক্রম’ বলে বর্ণনা করেছে।
রিপোর্টে বলা হয়, ইসরাইলি বর্বরতার মধ্যে রয়েছে- মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া, আঙুল বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, অণ্ডকোষ মোচড়ে দেয়াসহ বর্বর নির্যাতনের ঘটনা।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর