• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

মাইজভাণ্ডার মসজিদের গোপন অ্যাকাউন্টে ১৯ কোটি টাকার তদন্তে দুদক

Durnitiসিসি নিউজ: মাইজভাণ্ডার শাহী মসজিদ কমিটির সভাপতি সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারির স্বাক্ষর জাল করে খোলা গোপন অ্যাকাউন্টে ১৯ কোটি টাকার চেক জমা হওয়ার ঘটনা তদন্তে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মামলার নথি বৃহস্পতিবার দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে পৌঁছেছে।

আগামী রোববার তদন্তের অনুমোদন চেয়ে নথি ঢাকায় কমিশনের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দুদকের পরিচালক আব্দুল আজিজ ভূঁইয় বলেন, রোববার তদন্তের অনুমোদন চেয়ে চিঠি দেব। আশা করছি দ্রুত অনুমোদন পেয়ে তদন্ত শুরু করতে পারব।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংকের লালদিঘী শাখার একটি অ্যাকাউন্টে সম্প্রতি এক পাকিস্তানি নাগরিক ২০ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। লন্ডনের বারক্লেস ব্যাংক থেকে এ টাকা পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এত বড় অংকের টাকা ইসলামি জঙ্গিদের তহবিলের জন্যই পাঠানো হয়েছে।

অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছে মাইজভাণ্ডার শরিফ শাহ-ই-জামে মসজিদ পরিচালনা ও উন্নয়ন কমিটির নামে। তবে এ মসজিদ কমিটির সভাপতি সৈয়দ নাজিবুল বাশার মাইজভাণ্ডারি দাবি করেছেন, কমিটির দুই সদস্য তার এবং আরো এক সদস্যের সই জাল করে অ্যাকাউন্টটি খুলেছে। তিনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান।

তিনি আরো দাবি করেন, কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএমএস শাহজাহান মাইজভাণ্ডারি এবং প্রধান কোষাধ্যক্ষ এসএম সহিদুল আলম জনতা ব্যাংকের লালদিঘী শাখায় এ বছরের মে মাসে অ্যাকাউন্টটি খুলেছেন।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অ্যাকাউন্টটি অসৎ উদ্দেশ্যে খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাইজভাণ্ডারি শরিফের ভাবমূর্তি এবং রাজনৈতিক আদর্শকে ধ্বংস করা হতে পারে। টাকাগুলো জঙ্গি কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘১৫ লাখ পাউন্ড অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা গোয়েন্দা এবং জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করি। টাকা অজ্ঞাত এক পাকিস্তানি লন্ডনের বারক্লেস ব্যাংকের পিএলসি শাখা থেকে পাঠানো হয়েছে। ২৪০ হোয়াইট চ্যাপেল রোডের বিজনেস সেন্টারে ব্যাংকটি অবস্থিত।’

১৪ মে এমপি নাজিবুল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার, র‌্যাব-৭ এর কমান্ডিং অফিসার, এনআইএসের মহাপরিচালক, ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক এবং জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, এমপি নাজিবুল এবং কমিটির অন্য সদস্যদের সই নকল করে শাহজাহান অ্যাকাউন্টটি খুলেছেন। গোপনে বড় অংকের টাকা দেশে আনাই ছিল তার লক্ষ্য।

অভিযোগ অনুযায়ী, কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) একটি মামলা করেন এবং তারপর মহানগর দায়রা জজ এসএম মুজিবুর রহমান ১৯ মে বিষয়টি সম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম আদালত সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সব নথি জব্দ করার নির্দেশ দেন।

পুলিশ পরিদর্শক নেজাম জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দেড় কোটি পাউন্ডের চেকসহ সব নথি জব্দ করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত প্রায় শেষ। তবে আইন অনুসারে, এ ধরনের মামলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খতিয়ে দেখার কথা। তাই দু’একদিনের মধ্যে আমরা দুদকে মামলাটি পাঠাবো।’

চট্টগ্রাম শহরে জনতা ব্যাংকের লালদিঘী করপোরেট অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার দিদারুল আলম জানান, স্বাভাবিক বিশ্বস্ততার খাতিরে তারা অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দিয়েছিলেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করা হয়েছে।

শাহজাহানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে ওই পাকিস্তানির কাছ থেকে তহবিল পাওয়ার যোগাযোগ পেয়েছেন তিনি। আজাদ ২০ কোটি টাকার মধ্যে দুই কোটি টাকা মসজিদের উন্নয়নের জন্য দিতে শাহজাহানকে প্রতিশ্রুতি দেন। বাকি টাকা আজাদ এবং তার ছয় সহযোগীর নেয়ার কথা। তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, কিন্তু আজাদ পুলিশকে বলেছেন তিনি শাহজাহানকে চেনেন না।

এ ঘটনায় ২৮ ‍অক্টোবর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নেজাম উদ্দিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে আনা জালিয়াতির অভিযোগ দুদকের সিডিউলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় সেটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।

নতুন বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ