সিসি নিউজ: রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বিয়ে হচ্ছে বেশ ধুমধাম করেই। ২৯ অক্টোবর গায়ে হলুদ হয়েছে। আজ শুক্রবার বিয়ে। ১৪ নভেম্বর বৌভাতের অনুষ্ঠান। ওই দিন বৌভাতের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন পাঁচ হাজার অতিথি। সব মিলিয়ে বেশ বড় অনুষ্ঠান হচ্ছে। এযাবতকালে মন্ত্রিপরিষদের কোনো সদস্যের এতো জাঁকজমকভাবে বিয়ে হচ্ছে। তবে অনেকেই এনিয়ে আলোচনা করছেন রেলমন্ত্রীর তো টাকা নেই, তাহলে এত বড় আয়োজনের বিয়ের খরচ কে দিচ্ছেন?
কেউ কেউ কেউ বলছেন তার বিয়ে বৌভাত সব মিলিয়ে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তারা এটাও বলেছেন যেই মন্ত্রীর একটি গাড়ি কেনার টাকা নেই, এই জন্য বন্ধু ও আত্মীয়দের সহায়তা নেন। তার নিজের পক্ষে পুরোপুরি নির্বাচনী খরচও বহন করা সম্ভব হয় না। এই জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে, দল থেকে নির্বাচনী ব্যয়ের আর্থিক সহায়তাও নেন। এছাড়া নির্বাচনের জন্য বন্ধু বান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেন। তার বিয়েতে এত টাকা খরচ কোথা থেকে আসছে।
এই ব্যাপারে রেল মন্ত্রী মজিবুল হক বলেছেন, এটা সত্য যে আমার অনেক টাকা নেই। সীমিত আয়ের মানুষ। আমার বিয়েতে ঠিক কত টাকা খরচ হবে সেটা এখনো বলতে পারছি না। যখন যেখানে যে টাকা লাগছে সবই করছি। এখনো জানি না আরো কত খরচ হবে। তবে এখানে এই কথাটি না বললেই নয় তা হলো আমার বিয়ের সব খরচ আমি দিচ্ছি না। আমার বিয়ের খরচ দিচ্ছেন অনেকেই। এরমধ্যে আমার ভাইয়েরা, ভাতিজা, ভাতিজির জামাইরা খরচ দিচ্ছে। আমার পরিবারে আমি সবচেয়ে ছোট ছেলে। আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা সব মিলিয়ে প্রায় তিন’শ জনের মতো। এরমধ্যে অনেকেই খরচ দিচ্ছে। যে যতখানি তার সামর্থ আছে সেই সমর্থ অনুযায়ী দিচ্ছে। এর সমন্বয় করছেন আমার বড় ভাই। সব টাকা তার কাছে জমা দিচ্ছে তিনি খরচ করছেন।
মন্ত্রী হিসাবে আপনি আপনার বিয়ের খরচ কতটা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কমই গেছে। তবে কোনো বাজেট নেই। ২- ৫ লাখ যাই লাগুক সেটাই খরচ করবো।
বিয়ের কাবিন করছেন কত টাকা জানতে চাইলে বলেন, এখনো কাবিনের টাকা ঠিক করি না। মেয়েদের কোনো ডিমান্ড নেই। এই কারণে মেয়ের বাড়িতে বিয়ে করতে যাওয়ার পর তারা যেটা দাবি করবে সেটাই দেব। এটা নিয়ে আমি কোনো দরকষাকষিতে যেতে চাই না।
কাবিনের টাকা কি বিয়ের দিনই পরিশোধ করে দিবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, আইন অনুযায়ী যেটা করতে হবে সেটাই করবো।
বিয়ের কেনাকাটা কোথা থেকে করলেন জানতে চাইলে বলেন, সবই দেশে থেকে কিনেছি। বিদেশি কিছু থাকলেও থাকতে পারে সেটা আমার ভাই- ভাবী জানেন। তবে সেটা কসমেটিক্স হবে। শাড়ি দেশ থেকে কেনা হয়েছে। বিয়ের শাড়ি কেনা হয়েছে ৪০ হাজার টাকায় আর বৌভাতের শাড়ি কেনা হয়েছে বিশ হাজার টাকায়।
আপনার বাগদত্তা কী ধরনের গহনার বায়না ধরেছেন জানতে চাইলে বলেন, তার কোনো ডিমান্ড নেই। আমি যেটা দেব সেটাই পছন্দ করবে। বিয়ের পর হানিমুনে কোথায় যাবেন জানতে চাইলে বলেন, এখনো ঠিক করিনি। যেতেও পারি, নাও যেতে পারি। তবে দেখা যাক পরে কী সিদ্ধান্ত হয়।
বিয়ের পর বেইলী রোডের এক নম্বর বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে উঠবেন। বাসা ঠিক হয়ে গেছে প্রায়। মন্ত্রীর স্ত্রী কেমন করে চলাফেরা করবে গাড়ি কিনেছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমি গাড়ি একটি কিনেছি। ওই গাড়ি কেনার সুযোগ পেয়েছিলাম করমুক্ত গাড়ি পাওয়ার সুবাদে। গাড়ি কেনার জন্য বেশি টাকা লাগেনি। টয়োটার একটি জিপ কেনার জন্য ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছিলাম। আর এছাড়াও বাকি টাকা আর ভাই ও বন্ধুরা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যরা আমাকে বিভিন্ন ভাবে সব সময় সহযোগিতা করে। আমার অত টাকা নেই। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাই বলে কোনো সমস্যা হয় না। তবে এও ঠিক আমাকে তারা স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করে। অনেকেই আমাকে প্রস্তাব দেয় বলে আপনার জন্য কি কি করা লাগবে বলবেন আমরা সহযোগিতা করতে চাই। তারা করেও। আমিও নেই। কোন সমস্যা হয় না। বিয়েতেও বাজেট নাই। যত লাগবে খরচ হবে। সবাই দেবে। তবে বেশি খরচ হোক তা চাইছি না। কোটি টাকা নাকি ছাড়িয়ে যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা হবে না।
তার বিয়েতে প্রধানমন্ত্রী আসবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমার বিয়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি। শুধু বিয়ে বলে কথা নেই। সার্বিকভাবে তিনি আমাকে সহায়তা করেন। বিয়েতে তাকে আসার জন্য অনুরোধ করেছি। তিনি এলে আমি কৃতার্থ হবো। আশা করি আমাদেরকে দোয়া করার জন্য আসবেন। তবে এরপরও কথা থাকে তিনি আসবেন কি আসবেন না সেটাতো তার একান্তই ইচ্ছে।
আগামী ১৪ নভেম্বরের বৌভাতের জন্য সাড়ে তিন হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, কার্ড দিয়েছি সাড়ে তিন হাজার। এর বাইরে আরো অনেকই আছেন। তারাও বিয়ের দিন এসে হাজির হবেন। মনে হয় সব মিলেয়ে পাঁচ হাজারের বেশি হবে অতিথি।
জন প্রতি খাবারের বাজেট কত জানতে চাইলে তিনি বলেন সাড়ে তিন’শ চার’শ হবে কমপক্ষে। এর বেশিও হতে পারে। এখনও ঠিক জানি না। ১৭-২০ লাখ টাকা লাগবে কেবল খাওয়ার খরচ। এই ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, সেটা লাগবে। তিনি বলেন, দাওয়াত দিয়েছি খাওয়াতে হবে না। এই টাকা খরচ হলে সমস্যা নেই। আর একটু বেশিও হতে পারে।
বিয়ের দিনে খরচ কেমন জানতে চাইলে বলেন, ওই দিন আমার তেমন কোনো খরচ নেই। ওই দিন মেয়েদের খরচ হবে। আমার খরচ কম। কিছু খরচ হবে। সেটা সহনীয়। তিনি বলেন, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যা খরচ হয়েছে এরমধ্যে আমার এক লাখ ৩৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে হিসাব করেছি।
তিনি বলেন, আমার অত টাকা নেই। সবাই সহযোগিতা করে বলে সব কিছুই অনেক সহজ হয়ে যায়। যেমন আমি যে নির্বাচন করি এই নির্বাচনের জন্যও আমাকে অনেকেই সহায়তা করেন। এরমধ্যে পার্টির তহবিল থেকেও আমার নেত্রী আমাকে খরচের একটা অংশ দেন। যদিও তা খরচের তুলানায় সামান্য অংশও। তারপরও বলবো সবাই দিলে সমস্যা হবে না।