সিসি নিউজ: শহরে যানজট নিরসন, জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন, সুষ্ঠ ও নিরাপদে যানবাহন চলাচল ও সংক্ষিপ্ত সড়ক যোগাযোগের জন্য ১৯৯৯সালে নীলফামারী বাইপাস সড়ক নির্মিত হলেও দীর্ঘ পনের বছরেও পুর্নাঙ্গ রুপে চালু হয়নি সড়কটি।
জেলার একমাত্র সড়কের উপর দিয়ে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল করায় দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা আর নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।
নীলফামারীর সাথে সারাদেশের যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটির উপর চাপ কমানো এবং নির্বিঘেœ চলাচলের জন্য কালিতলা বাসটার্মিনাল থেকে শুরু করে পাঁচমাথা, ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদ, বাদিয়ার মোড় শিমুলতলা হয়ে পুলিশ লাইনের পাশ দিয়ে সড়ক বিভাগের তত্বাবধানে সাড়ে আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে নির্মাণ করা হয় বাইপাস সড়ক।
প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হলেও পুর্ণাঙ্গ ভাবে চালু না হওয়ায় সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে না কোন ধরণের যান বাহন। খানা খন্দে ভরে যাওয়ায় সংস্কার করা হয়নি অদ্যাবধি অথচ বাইপাস সড়কটি নীলফামারী বাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো। নীলফামারী রিকসা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তালেব জানান, আন্দোলন করে ইপিজেড করেছি, আন্দোলন করে বাস টার্মিনাল করেছি, বাইপাস সড়ক করেও সেটি পুর্নাঙ্গ রুপে চালু করতে পারছি না।
জেলার একমাত্র সড়কটির উপর দিয়ে বাস ট্রাক, মাইক্রোবাস, দুর পাল্লার পরিবহন গুলোসহ ছোট বড় যানবাহন চলাচল করায় শহরে যানজট তৈরি হয়। স্কুল কলেজ চলাকালিন সময়ে নানা সমস্যায় পড়েন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। নীলফামারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এসএম শহিদুল ইসলাম বলেন, শহরের ভেতরে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শহরের ভেতরের মুল সড়ক দিয়ে চলছে সব ধরনের যানবাহন। চোখের সামনে ঘটছে দুর্ঘটনা, মারাত্মক ঝুকি নিয়ে চলাফেলা করছে শিক্ষার্থীরা।
বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় জাপা দলীয় সংসদ সদস্যের সময় নির্মিত বাইপাস সড়কটি অদ্যাবধি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ এবং জেলার উন্নয়ন, শিল্পায়ন, যোগাযোগ সমস্যা নিরসন ও পরিবহন সেক্টরের স্বার্থে দ্রুত সড়কটি পুর্নাঙ্গ ভাবে চালু করা প্রয়োজন মনে করেন বিভিন্ন মহল।
সাবেক সাংসদ আহসান আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ আমার সময় শুরু হলেও তারপর দুটি সরকার গেলো কেউ কোন উদ্যোগ নেয়নি অবিলম্বে নীলফামারী বাসীর জন্য সড়কটি পুর্নাঙ্গ রুপে চলাচলের উপযোগী করা গড়ে তোলার দাবী তার। ব্যবসায়ী আজগর আলী জানান, শহরে চাপ কমাতে এবং শহরের বাহিরে শিল্পায়ন গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ফ্যাক্টরী প্রতিষ্ঠান তুলেছে কিন্তু যোগাযোগের কারণে সেগুলো আলোর মুখ দেখছে না।
নীলফামারী বাইপাস সড়ক নির্মাণসহ নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়ক উন্নয়নে প্রায় ১শ কোটি টাকার প্রস্তাবনা যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হলেও অপেক্ষায় রয়েছে অনুমোদনের। তবে শহরের মুল সড়কগুলোর কাজ শেষ করে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হবে বলছে কর্তৃপক্ষ। নীলফামারী সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভির সিদ্দিকী জানান, নীলফামারী-বাইপাসসহ সৈয়দপুর সড়ক নিয়ে সংযুক্ত সড়ক উন্নয়নে ১শ কোটি টাকার প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে রয়েছে। একনেকে পাস হলে সড়কটির কাজ শুরু হবে।
শহরের মুল সড়কটির পাশ দিয়ে গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং যোগাযোগের একমাত্র রুট হওয়ায় ঝুঁিক নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে নীলফামারীবাসীকে। শহরে স্বাভাবিক পরিবেশ ঠিক রাখা এবং নিরাপত্তাহীনতা থেকে রক্ষায় অবিলম্বে বাইপাস সড়কটি চালুর দাবী জেলাবাসীর।
নীলফামারী চেম্বার সভাপতি এসএম শফিকুল আলম ডাবলু, মোটর মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলী চৌধুরী ব্যবসার বাণিজের্য সম্প্রসার এবং শহরকে নিরাপদ রাখতে বাইপাস সড়ক চালু করার দাবী জানান।