• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

হাসিনা নব্য হিটলার: খালেদা

khaladaসিসি নিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, “মানুষ বলে স্বৈরাচার। আমি বলবো তিনি শুধু স্বৈরাচার নন, তিনি নব্য হিটলারের জন্ম হয়েছে। হিটলারের মতো তিনি মানুষ হত্যা করছেন। যখন যা খুশি তাই করছেন।”
শনিবার বিকেলে উত্তরাঞ্চলের জেলা নাটোরের নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জেলা ২০দলীয় জোটের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি ‘নব্য হিটলারকে’ ক্ষমতা থেকে সরাতে নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান।
প্রায় এক ঘণ্টার বক্তব্যে খালেদা জিয়া সরকারের নানা সমালোচনা করেন। পাশাপাশি আগামী দিনে আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে।
এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সময়ে বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন।
সবশেষ খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে নাটোর এসেছিলেন। সে হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর পর তিনি উত্তরাঞ্চলের এই জেলায় সফর করলেন।
বেলা একটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলের স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
দুপুরে অনুষ্ঠান শুরু হলেও সকাল থেকেই এনএস কলেজ মাঠে মিছিলসহ নাটোরের আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। তাদের হাতে ছিল রঙ বেরঙের ব্যানার ফেস্টুন। তাতে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবির সঙ্গে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবি ছিল। এছাড়াও সরকারের  সমালোচনা করে নানা স্লোগান লেখা ছিল।
এছাড়া আগত নেতাকর্মীদের জন্য আলাদা আলাদা স্থান ও পোশাক নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কেউ লাল, কেউ হলুদ রঙের গেঞ্জি পরে মাঠের মধ্যে অবস্থান নেন। এছাড়া সবার হাতে ছিল লাল সবুজের পতাকা।
জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের দলের আটক নেতাদের মুক্তি দাবি সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে মাঠে আসেন। তবে অন্যান্য সময়ের মতো সকালের দিকে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে না এলেও একটার দিকে তারা মিছিলসহ মাঠে আসেন।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মঞ্চে আসেন খালেদা জিয়া। এসময় নেতাকর্মীরা তুমুল করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। স্লোগানে ফেটে পড়ে গোটা জনসভাস্থল। এসময় খালেদা জিয়াও হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন।
এদিকে খালেদা জিয়া মঞ্চের আসার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক হাজার বেলুন আকাশে উড়িয়ে দেয়া হয়।
সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসভার মাঠ ছাড়িয়ে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে উপস্থিতি গোটা নাটোর শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় শহরের মধ্যে যানচলাচল।
আন্দোলনের আগে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার এই নাটোর সফর।সবশেষ তিনি নীলফামারীতে সমাবেশ করেছেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার সমাবেশের মঞ্চে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, “শেখ হাসিনা সরকার হামলা-মামলার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছে। তারা পুরো দেশটাকে কারাগারে পরিণত করেছে। বিরোধী জোটের কোনো নেতাকর্মী আজ মামলার বাইরে নেই। দেশে আজ আর কোনো গণতন্ত্র নেই।”
তিনি বলেন, “দেশে প্রতিনিয়ত গুম, খুন চলছে। জনগণের নিরাপত্তা নেই। এভাবে দেশ চলতে পারে না। চলতে দেয়া যায় না।”
তিনি আরো বলেন, “আজ সারাদেশে বিদ্যুৎ নেই। সরকার লুটপাটের জন্য বারবার বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এখন আবার দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। এবার দাম বাড়ালে জনগণ মেনে নেবে না।”
এ দেশে বিনিয়োগ আসছে না অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, “দেশি-বিদেশি কেউ বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছে না। কেউ বিনিয়োগ করলেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগকে চাঁদা দিতে হয়। তাই দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। দেশে দরিদ্রতা বেড়ে যাচ্ছে।”
সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, “পাসের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে তারা বাহবা নিচ্ছে। আজ হাসিনা ঘরে ঘরে বেকার তৈরি করছেন। তারা এটা সুপরিকল্পিতভাবে করছে। এই ষড়যন্ত্র চলতে পারে না, চলতে দেয়া যায় না।”
সরকার একে একে সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে মন্তব্য করে চেয়ারপারসন বলেন, “সরকার বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ, দুদক, স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষাখাত ধ্বংস করে দিচ্ছে। তারা বিচারপতিদের অভিসংশোনের আইন পাস করে বিচারপতিদের চাপের মধ্যে রাখছে। সরকারের মতো রায় না দিলে তাদের পদ হারাতে হবে। এখন শিক্ষাকে এমনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে- যে গড়ে সবাই জিপিএ ফাইভ পাচ্ছে।”
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য উন্নতি। দেশের উন্নতি। জনগণের মঙ্গল। আর এ সরকারের উদ্দেশ্য লুটপাট। তারা লুটপাট করে দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা বিদেশ থেকে সাহায্য আনে তা জনগণের কপালে জোটে না। তা নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।”
দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। র‌্যাব মানুষকে টাকার বিনিময়ে খুন করছে।”
তিনি র‌্যাব বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে পুলিশকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজীবন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে না। যে আপনাদের প্রটেকশন দেবে। তারা ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবে।”
দুদককে দুর্নীতি কমিশন আখ্য দিয়ে তিনি বলেন, “এরা দুর্নীতি দমন কমিশন নয়, দুর্নীতি কমিশন। ক্ষমতাসীনদের এরা দায়মুক্তি দিচ্ছে। এরা সরকারের আজ্ঞাবহ।”
এসময় তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, “এরা হলো অথর্ব, অপাদর্থ। এদের দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকারের ওপর দোষারোপ করে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা সত্য কথা বলতে পারছে না। বিরোধীমত প্রকাশ করতে পারছে না। আগে আমার দেশকে বন্ধ করা হয়েছে। তারা অনলাইনে চালাতো তাও আগুন দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।”
আওয়ামী লীগের হাতে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয় এমন দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “এরা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না। এরা হলো নরপিচাশ। মানুষের আকৃতিতে এরা মানুষের রক্ত চুষে খায়।”
একটি দৈনিকের কপি দেখিয়ে তিনি বলেন, “এই যে দেখেন পাঁচ মন্ত্রী বনের জায়গা দখলের সুপারিশ করছে। এরা হলো বনখেকো মন্ত্রী।” তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, “কানে না হয় শুনেন না। চোখেও কি দেখেন না। এসব দেখেন না কেন?। আদালত তো রঙ হেডেড বলেছে। তাই এভাবে হলে কিভাবে দেশ চালাবে।”
নাটোরের জনসভা সরাসরি সম্প্রচার বাধাগ্রস্ত করতে সরকার বিদুৎ বন্ধ করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। সমাবেশ বন্ধ করতে সরকার নানা কৌশল করছে এমন দাবি করে তিনি বলেন, “এরপরও জনস্রোত থামাতে পারেনি।”
‘বিএনপির পায়ের নিচে মাটি সরে যাচ্ছে’ প্রধামন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের পায়ের নিচে শক্ত মাটি আছে। যার প্রমাণ আজকের সমাবেশ। আমরা আন্দোলন পারি না। পুলিশকে অন্যায়ভাবে গুলি করা বন্ধ করে দেখুন দেখুন কী হয়। আমরাই তো এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। আপনি (শেখ হাসিনা) তো স্বঘোষিত বেইমান।”
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ক্ষমতা ছেড়ে দিলে কী হবে এরা সেই চিন্তায় আছে। যদি ভালো কাজ করে থাকেন, উন্নয়ন করে থাকেন তাহলে দেখুন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে। আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই।”
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্য সফর নিয়ে তিনি বলেন, “নাচতে নাচতে মধ্যপ্রাচ্য সফর করলেন। কিছুই পারেননি। আমরা ক্ষমতায় গেলে এখানে আবারো বাজার তৈরি করতে পারবো। সেই ভরসা আমাদের আছে। সরকার মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করেছে।” সরকার এখন এক ঘরে হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “প্রস্তুত থাকুন। সময় মতো ডাক দেব। যে সময় যে কর্মসূচি দেব তাতে আপনারা শরিক হবেন। আমাদের আগের আন্দোলন ব্যর্থ হয়নি। আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণ ভোট দিতে যায়নি। সে সময় কুকুর ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের মুখ রক্ষা করেছে।”
খালেদা জিয়া বলেন, “জীবনের শেষ বেলায় আমরা আর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শখ নাই। দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। এজন্য আন্দোলন করছি। আসুন আর একবার ঐক্যদ্ধভাবে আন্দোলন করে দেশকে রক্ষা করি। আমি ডাক দিলে থাকবেন। আমি আছি, থাকবো। আসুন হিটলারদের বিদায় করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো।”
কারাবন্দি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান খালেদা জিয়া। সবশেষ নাটোরের নেতাকর্মীদের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নেতৃত্বে কাজ করার জন্য বলেন বিএনপি প্রধান। সমাবেশ শেষ করেই সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে নাটোর ছাড়েন খালেদা জিয়া।
এছাড়াও বক্তব্য দেন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ফজলুর রহমান পটল, মিজানুর রহমান মিনু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক প্রমুখ।
জোট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মজিবুর রহমান, রেদওয়ানুল্লাহ শাহেদী, শফিউল আলম প্রধান, ড. রেদওয়ান আহমেদ, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, আবদুল মোবিন, সাইফুদ্দিন মনি, গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, এম আমিনুর রহমান প্রমুখ।

নতুন বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ