নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে ধান ক্ষেকের মাজরা পোকা মারার কিটনাশক খেয়ে গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক আত্মহনণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আত্মহত্যার চেষ্টার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। রোববার সকাল ১০টা ৪০মিনিটে ওই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আবু বক্কর এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে বলে জানায় চেয়ারম্যানের ভাতিজা কামরুল ইসলাম বাবু।
নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছমিন দিল জান্নাত বলেন, বিষ খাওয়া রোগি হিসাবে এনামুল হক ভর্তি হয়েছেন। তার পাকস্থ্যলী পরিস্কার করা হয়েছে। দুপুর দুটার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়েছে।
গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ আবু বক্কর বলেন, সকালে গোড়গ্রাম ইউনিয়নের শিমুলতলী বাজারের একটি চায়ের দোকানে আমি চা খাচ্ছিলাম। এসময় দোকানটির সামনে দিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবকে যেতে দেখি। কিছু সময় পর জানতে পারি চেয়ারম্যান সাহেব ওই বাজারের পাশে মিলচাতালের সামনে পরে রয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি তার মূখ দিয়ে ফ্যানা বের হচ্ছে এবং সেই ফ্যানায় বিষের গন্ধ বের হচ্ছে। দ্রুত আমি ও তার ভাতিজা মিজানুর রহমানসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে নীলফামারী আধুনকি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন চেয়ারম্যানের বাড়ির আশে-পাশের কয়েক জন প্রতিবেশী নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, গত শনিবার রাতে কি এক বিষয় নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া হয়। এবং চেয়ারম্যান স্ত্রীর ওপড় অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সকালে কিটনাশক খেয়ে আত্মহনণের চেষ্ঠা করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যানের স্ত্রী রুবিনা বেগম বলেন, রোববার সকালে বাড়িতে নাস্তা না খেয়ে গোড়গ্রাম বাজারের উদ্দ্যেশে বের হয়ে জানান চেয়ারম্যান। কিছু সময় পর বাড়িতে ফিরে এসে বলে নাস্তা খেয়ে এসছি। এর পর আবারো মাছ কিনবে বলে বাজারে যায় তিনি। সকাল আটটার দিকে বিষ খাওয়ার খবর পায়। কেন বিষ খেয়েছে জানতে চাইলে রুবিনা বেগম বলেন, তিনি বিষ খাননি, বাজারে তাকে কেউ নাস্তার সাথে বিষ খাইয়েছে হত্যা করার জন্য। এছাড়াও ওই ইউনিয়ন পরিষদের তিনজন সদস্য তাকে বেশ কিছুদিন ধরে বিরক্ত করে আসছেন। এরা কারা এবং কি ধরণের বিরক্ত করছেন জানতে চাইলে তিনি এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে চেয়ারম্যান সাহেবকে বিমর্ষ দেখা যাচ্ছিল। সকালে তিনি বাজারের পাশের একটি মিলচাতালের কাছে পড়ে গিয়েছিল। তার কাছাকাছি দুরত্বে বিপকর্ক নামের একটি কিটনাশকের শিশি পাওয়া গেছে। মাজরা পোকা দমনের জন্য কৃষকরা এই বিপকর্ক ধান ক্ষেতে ও বেগুন ক্ষেতে ব্যবহার করে থাকেন। তবে আত্মহত্যার চেষ্টার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান পাশা বলেন, আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চেয়ারম্যানকে দেখেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।