একরামুল হক বেলাল : জাতীয় সমবায় দিবসে সরকারী বরাদ্দের টাকা পকেটস্থ করে সমবায় সমিতির নিকট থেকে চাঁদা আদায় করে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পালিত হলো ৪৩তম সমবায় দিবস। আর চাঁদা আদায়ের বিষয়ে অকপটে স্বীকার করলেন পার্বতীপুর সমবায় অফিসের দুই পরিদর্শক।
সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরেও গত শনিবার ৪৩তম সমবায় দিবস পালিত হয়। একই দিনে জাতীয় যুব দিবসের কারনে দিনাজপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাহাজাহান আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম। এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।
এদিকে পার্বতীপুর সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক কামরুজ্জামান ও সাধু রাম এর সামনে এমএলএসএস (পিয়ন) জমাকুল ইসলাম জানান, সমবায় দিবসের চিঠি বিতরণের সময় সহকারী পরিদর্শক কামরুজ্জামন স্যারের কথায় সমবায় সমিতির সভাপতি/সম্পাদকের নিকট থেকে ১ হাজার চাঁদা আদায়ের বিষয়টি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। এসময় ওই দুই পরিদর্শক চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে সাধুরাম ৪ হাজার ২শ’ টাকায় আদায় হয়েছে বলে জানান। চাঁদা আদায়ের পরিমান ঠিক বলে সম্মতি জ্ঞাপন করেন অপর সহকারী পরিদর্শক কামরুজ্জামান।
অন্যদিকে, অপর আরও ৩টি সমবায় সমিতির সভাপতি-সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার কাছেও ১ হাজার টাকা চাঁদা চাইলে তিনি ৫শ’ টাকা করে দিয়েছেন। এ অফিসের অধিনে ২৩৬টি সমবায় সমিতি রয়েছে। সহকারী পরিদর্শক কামরুজ্জামান চাঁদা আদায়ের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দিবসটি উদযাপনের ক্ষেত্রে ব্যয়ের চেয়ে বরাদ্দ কম থাকায় তিনি জেলা সমবায় কর্মকর্তার সাথে কথা বলে চাঁদা আদায় করেছেন। এ সমবায় দিবস পালনের জন্য পার্বতীপুর উপজেলা সমবায় অফিসকে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়াও গত বছরও গোপনে সমবায় সমিতির নিকট থেকে সহকারী পরিদর্শক কামরুজ্জামান চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।