বিনোদন ডেস্ক: দেহ ব্যবসায় নাম জড়িয়েছে তার। তার জেরে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। সদ্য পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী শ্বেতা বাসু প্রসাদ। এবার নিস্তব্ধতা ভাঙলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, দেহব্যবসা এবং গ্রেফতারি সংক্রান্ত যে মন্তব্যের দায় তার ঘাড়ে চাপানো হয়েছে, তা আদৌ তিনি করেননি।
একটি সাক্ষাত্কারে শ্বেতা বলেন, ‘আমি শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বাড়ি ফিরি। যে সাংবাদিক আমাকে এ ধরনের বিবৃতির জন্য দায়ী করে, তা প্রকাশ করেছিলেন, তাকে ছাড়া আর কারও বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। সেই মন্তব্য সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ২ মাস ধরে ওয়েবসাইট বা সংবাদপত্রের কোনো দেখা পাইনি, তাই এ ব্যাপারে আমার কোনও ধারণা ছিল না। এখন আমি এ ব্যাপারে জানতে পারি।’
এখানেই থামেননি শ্বেতা। জানিয়েছেন, ‘আমি হেফাজতে ছিলাম। মা-বাবার সঙ্গে আমাকে কথা বলতে দেয়া হয়নি, সে ক্ষেত্রে আমি কী ভাবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললাম? যে-ই সেই মন্তব্য করেছে, তারা আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। সিনেমা জগতের দরজা আমার জন্য বন্ধ ছিল না। বরং সিনেমা জগত্ সবসময়ই আমাকে স্বাগত জানিয়েছে। আর ‘অর্থ উপার্জনের জন্য দেহব্যবসায় নামতে লোকেরা আমায় উত্সাহিত করেছে’! এটি ভয়ানক মিথ্যা মন্তব্য। আমি এমন কিছুই কখনো বলিনি।’ বালু নামে কোনো এজেন্ট তার হয়ে টাকা নিয়েছিল– এমন কথাও মিথ্য, দাবি শ্বেতার।
তিনি এ-ও জানান, ‘আমি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য হায়দরাবাদে গিয়েছিলাম। আয়োজকরা আমার বিমান এবং হোটেলের খরচ দিয়েছিল। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি আরও একদিন থেকে গিয়েছিলাম, এটি আমার দুর্ভাগ্য। তখনই রেড হয়। আমি বুঝতে পারছি না, কী ভাবে এর মধ্যে পড়ে গেলাম। আমি ড্রাগ নিই না, কারও খুন করিনি… মানুষ উত্সাহিত কারণ, তারা মনে করেন এখানে যৌনতার গন্ধ রয়েছে, কেউ সাফার করছে এবং এমন কেউ জড়িত, যার নাম রয়েছে।’
কোন মন্তব্য সম্পর্কে জানতে পেরে মুখ খুললেন শ্বেতা? তার গ্রেফতারির পর এক দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল সেই মন্তব্য। শ্বেতা নাকি বলেছিলেন, ‘আমি আমার কেরিয়ারে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। টাকাও শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরিবারকে সাহায্যে করার প্রয়োজন ছিল। সব দরজাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখনই অর্থ উপার্জনের জন্য কয়েকজন দেহ ব্যবসায় নামতে বলেন। আমি অসহায় ছিলাম। তাই কোনো রাস্তা না-পেয়ে এই পথে হাঁটতে শুরু করি। আমি একা নই, এমন অনেক অভিনেত্রী আছেন, যারা এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন।’ শ্বেতা জানিয়েছেন, তিনি সেই সাংবাদিকের খোঁজে রয়েছেন, যে এই মন্তব্যের দায় তার কাঁধে চাপিয়েছে।
নিজেকে ভিকটিম দাবি করে শ্বেতা বলেন, ‘রেড হয়েছিল… আমি সেই সত্য অস্বীকার করছি না। কিন্তু যা দেখানো হচ্ছে, তা সত্য নয়।’- ওয়েবসাইট