স্বাস্থ্য ডেস্ক : ঋতু পরিবর্তনের এ সময়টাতে অনেকেই সর্দিজ্বরে ভুগে থাকেন। সর্দিজ্বর একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। এটি বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির হাতের ছোঁয়ায় অথবা তার ব্যবহার্য জিনিসের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ছড়ায়। এ রোগে সর্দি, হাঁচি, কাশি, জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ম্যাজ ম্যাজ করাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে কিছু সতর্কতা মেনে চললে এ বিরক্তিকর সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়।
সর্দিজ্বরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কিছু ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। যেমন- হাঁটাচলা, টাটকা ও পুষ্টিকর সুষম খাদ্যসহ ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত মৌসুমি ফল (লেবু, কমলা, পেয়ারা, জাম্বুরা, আমলকী ইত্যাদি) গ্রহণ, প্রচুর পরিমাণে পানি পান ও অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানোর সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম। তাছাড়া গরম লবণ পানির গড়গড়া করলে, মেনথলসহ গরম পানির ভাপ নিলে, আদাকুচি বা আদার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে ও ঠান্ডা না লাগালে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, নাক-কান বন্ধ হয়ে থাকা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ ভাব ও জ্বর থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়। হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্যে নাকে-মুখে গরম বাতাস টেনে নিলেও অনেকটা হালকা ও ফ্রেশ লাগতে পারে । ধূমায়িত চা, লেবুর রস মিশ্রিত কুসুম গরম পানি পান, গরম পানির গোসল, গরম গরম ভাত ও প্রোটিনযুক্ত তরকারি খেলে সর্দিজ্বর উপশম হয় । তুলসী পাতার রস (যেমন তুলসীর চা) সর্দিতে বেশ উপকারী। হোমিওপ্যাথিতে অ্যাকোনাইট ও ব্যালাডোনা বেশ ভালো কাজ করে। সর্দিজ্বর প্রতিরোধে ‘তামিফ্লু’ (ওসেল্তামিভির ফসফেট) একটি নতুন ওষুধ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মাধ্যমে এটি বিভিন্ন দেশে বিতরণের ব্যবস্থা হচ্ছে। সর্দিজ্বরের চিকিৎসায় এটি হতে পারে একটি যুগান্তকারী সংযোজন।