ঢাকা: দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ন্যায়সঙ্গত দাবি পূরণে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মানজনক সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে।
শনিবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) এর ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও গণ প্রকৌশল দিবস-২০১৪ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী একথা বলেন। রাজধানীর আইডিইবি ভবন মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় শিল্পমন্ত্রী বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন। কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। এ বিবেচনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে প্রথম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের প্রত্যেক জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং বৃহত্তর জেলাগুলোতে কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে অভ্যন্তরীণ শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিদেশে কর্মরত জনবলের রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইসলামের নামে দেশে জঙ্গি অপতৎপরতা চলছে উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। জঙ্গিবাদের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে মুসলমানদের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম পরায়ণ হলেও ধর্মান্ধ নয়। ধর্মান্ধতা দেশকে এগিয়ে নিতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ বিনির্মাণের অভীষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ফলে বিশ্বমন্দার মাঝেও বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
দেশের রফতানি আয়, রেমিট্যান্স, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারসহ সকলখাতে বর্তমান সরকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১১ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ও পাঁচ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের প্রকৌশল কর্মকাণ্ডের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ কাজ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা করে থাকে। তারা অবিলম্বে শূন্য পদে নিয়োগদান, বেতন বৈষম্য নিরসন, পদোন্নতির কোটা শতকরা ৫০ ভাগে উন্নীতকরণ, ২০০৮ সালের বিতর্কিত ঢাকা মহানগর নির্মাণ আইন সংশোধন এবং পলিটেকনিক ছাত্র-শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ। এতে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলা ও সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।
পরে মন্ত্রী গণপ্রকৌশল দিবস উপলক্ষে আইডিইবি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যা লিতে অংশ নেন। র্যা লিটি আইডিইবি ভবন থেকে শুরু হয়ে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও পল্টন মোড় ঘুরে কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে এসে শেষ হয়। এতে কয়েক হাজার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী অংশ নেন।