রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট: কনের বাড়িতে বিয়ের সাজে বর। ধুমধামে চলছে খাওয়া-দাওয়া। বিয়ের আসরে উপস্থিত পাড়া-প্রতিবেশী। ঠিক সেই মুহুর্তে হাজির কুড়িগ্রাম ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী। সাথে একদল পুলিশ। বাল্য বিয়ের সেই কনেকে খুঁজছে পুলিশ। অনেক খোঁজা-খুজির পর পুলিশ পার্শ্বের বাড়ির খাটের নিজ থেকে কনে আলমিনা (১৩) কে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজারহাট উপজেলার সদর ইউপি’র নাফাডাঙ্গা গ্রামে রোববার রাতে।
পুলিশ জানায়, ওই গ্রামের গার্মেন্টস কর্মী আমিনুর ইসলামের কন্যা ও পাঠান মহিলা দাখিল মাদ্রাসা হতে চলতি জেডিসি পরীক্ষার্থী আমিনা (১৩)। পাশের সওদাগড় পাড়া গ্রামের নুরু মিয়ার কলেজ পড়ুয়া পুত্র রোকনুজ্জামান রোকন (১৭) এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম চলে আসছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করে রোববার। বাল্য বিয়ের এ সংবাদ পৌছে যায় জেলা প্রশাসকের কাছে। বিয়ের দিনক্ষণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী একদল পুলিশ নিয়ে হাজির হন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আলমিনার সম্পর্কীয় নানা জালাল উদ্দিন (৬৯), নানী হাজেরা বেগম (৫০) এবং পার্শ্বের বাড়ীর মাদ্রাসা শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান খলিল (৩৫) আটক করে। এদের প্রত্যেকের নিকট ১ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয় এবং বিয়ে না দেয়ার অঙ্গীকার করলে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ওই স্থান ত্যাগ করেন।