আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে দিলে ছেলেরা দিনে চারবার যেতে চাইবে্- এমন মন্তব্য করে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জমিরুদ্দিন শাহ ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিতে মেয়েদের প্রবেশের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জমির শাহ বলেন, “এটি আমাদের শৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং জায়গার অভাব। ছেলেদের দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সব সময় পূর্ণ থাকে।”
উপাচার্যের এমন মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ইরানি একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মেয়ে শিক্ষার্থী হওয়ায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি ব্যবহার করতে না দেয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
উপাচার্য বলেন, “মেয়ে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন মনে করলে মহিলা কলেজে যেতে পারবে এবং সেখানে লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারবে।”
আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের সবচেয়ে উঁচু মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ্য। সেখানকার লাইব্রেরিতে ছেলে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারলেও প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে পারে না।”
উপাচার্য জমির শাহ মঙ্গলবার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা নারীশিক্ষার বিরুদ্ধে নয়। বরং, সমস্যা হলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা অনেক কম। মেয়েদের লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগ দিলে পর্যািপ্ত জায়গার অভাবে অধ্যয়নের পরিবেশ নষ্ট হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তারাও আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ। অন্তত বই ধার দিয়ে তাদের অধ্যয়নের সুযোগ দেয়া হোক।