সিসি নিউজ: রাতের আঁধারে গাছ পাগল হায়দারের দেড় শতাধিক ফলজ গাছ কর্তন করেছে দুর্বত্তরা। কাটা গাছ দেখে হায়দার এখন পাগল প্রায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে একট্টা গ্রামবাসী। গত মঙ্গলবার রাতে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বাকডোকরা গ্রামের তিস্তা শাখা নালায় ওই ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র মতে, ওই গ্রামের মসজিতের মুয়াজ্জিন দিনমজুর হায়দার আলী। গত চার বছর ধরে গ্রামবাসীর বাড়িতে কোরআন তেলাওয়াত আর বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ক্রয় করেন বিভিন্ন গাছের চারা। ক্রয়কৃত চারাগুলো নিজেই রোপন করেন বাকডোকরা গ্রামের তিস্তা শাখা নালার দু’পাশ দিয়ে। এভাবে তিনি প্রায় এক হাজার গাছের চারা লাগিয়েছেন ওই নালায়। তিনি নিজেই করেন পানি সেচ, কীটনাশক ওষুধ ও সার দেয়ার পাশাপাশি বাঁশ কিনে খুঁটি লাগানোর কাজ। আর এজন্য ওই এলাকায় তিনি পরিচিতি পান গাছ পাগল হায়দার হিসেবে।
হায়দার জানান, মসজিতের নামাজ শেষে ছুটে যান গাছগুলোর কাছে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চারাগুলো পরিচর্যা করেন। চার বছরে ওই শাখা নালার প্রায় এক কিলোমিটারে প্রায় এক হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, নিম, জলপাই ও ওষুধী গাছ। গত বুধবার সকালে গাছ পরিচর্যা করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান তার লাগানো গাছগুলোর মধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক গাছ নেই। রাতের আঁধারে কে বা কাহারা গাছগুলো কেটে ফেলে রেখেছে। এ কথা বলতে বলতে তিনি কেঁদে ফেলেন।
ওই গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব, আবুল হোসেন ও আফছার আলী জানান, গাছ পাগল হায়দার একজন নিরীহ মানুষ। গ্রামে তার কোন শত্রু নেই। যারা এ কাজটি করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।
কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান জিকো আহমেদ গাছ কর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এ অমানবিক ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
কথা হয় সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনের সাথে। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।