ঢাকা: ব্র্যাক তেজগাঁও শিল্প এলাকার ৪ একর ৭৬ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক প্রসাদ চন্দ্র বিশ্বাস।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
প্রসাদ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘তেজকুনিপাড়া মৌজার সিএস-৫৬৫ নম্বর দাগের জায়গাটি পৈত্রিক সূত্রে তার নিজের হওয়া সত্ত্বেও ব্র্যাক দখল করে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘৫৬৫ নম্বর দাগের ৪ একর ৭৬ শতাংশ জমি বাংলা ১৩৮৬ সালে আমার বাবা কানাই লাল বিশ্বাস ভাওয়াল স্টেট থেকে পত্তন পেয়ে নিয়মিত খাজনাদি পরিশোধ করেছেন। আমি ভোগদখলে থাকাকালীন ভাওয়াল স্টেটের মূল মালিক আনন্দ কুমার দেবী এবং রাম নারায়ণ চৌধুরীর নামে ভুলক্রমে জমিটি রেকর্ডভুক্ত হয়। পরে আমি এ বিষয়ে অবগত হয়ে মিস কেইস করে আবার নিজের নামে রেকর্ডে অন্তর্ভূক্ত করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইংরেজি ১৯৬৪ সালে রেজিস্ট্রিকৃত সাফ কাবলা দলিল মূলে আমার নামে হস্তান্তর করে সত্ত্ববান হই। আরএস ২৫৯ নম্বর খতিয়ানে ৪ দশমিক ৭৬ একর জমিই শুদ্ধভাবে আমার নামে রেকর্ড হয়। এ অনুযায়ী বাংলা ১৪১৮ সাল পর্যন্ত আমি খাজনাও প্রদান করি।’
প্রসাদ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমি ব্র্যাকের এসএ নামজারীর বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে মিস কেইস করলে ব্র্যাক এবং ক্যাপিটাল প্রপার্টিজের জোত হতে ভূমি কর্তন হয়ে আমার নামে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের আদেশ দেয়। আমি যথারীতি ডিসিআর কাটিয়া নামজারী জমাভাগ পর্চাপ্রাপ্ত হই। পরবর্তীতে ব্র্যাক এবং ক্যাপিটাল প্রপার্টিজ মিস কেইসের আদেশের বিপরীতে রাজস্ব আদালতে আপিল করে। এতেও কোনো কাজ না হওয়ায় তারা একটি মামলা করে। এ মামলার রায়ও তাদের পক্ষে যাবে না বুঝতে পেরে ভূমি আপিল বোর্ডের উপর বিভিন্ন মহল থেকে চাপ সৃষ্টি করে। আমার নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে ওয়ারী থানায় দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দিয়ে মামলা করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার নাম গোপন রেখে সিটি জরিপে জমিটি ব্র্যাকের নামে হাসিল করে। ক্যাপিটাল প্রপার্টিজের করা আমার বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় একটি মামলাও বর্তমানে চলমান।’
সংখ্যালঘু হওয়ায় তার জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে উল্লেখ করে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের কাছে এর প্রতিকার চান প্রসাদ চন্দ্র বিশ্বাস।