জামাল উদ্দিন, চিরিরবন্দর: খাদ্য শষ্যের ভান্ডার হিসাবে খ্যাত উত্তরের জেলা দিনাজপুর। ১৩ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলা। জেলার ১৩টি উপজেলার দিগন্তজুড়ে ফসলের মাঠ। চারদিকে বর্তমানে সোনার সমারোহ। ‘ধন-ধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এ বসুন্ধরা’ কবির এ ভাষ্যটি বাস্তবে রুপদান করেছে দিনাজপুর জেলার কৃষকেরা। লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে কয়েকটি উপজেলা। রোপা আমন ক্ষেত যেন তারুন্যের হাসি হাসছে। কৃষকদের মুখেও এক চিলতে হাসি। আর কিছু দিন পরেই তাদের ঘরে উঁকি দেবে সোনালি স্বপ্ন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন আগাম জাতের ধান চাষ করে এ সাফল্যের কথা জানালেন উপজেলার কৃষকেরা। চারদিকে সবুজের সমারোহ দেখে সন্তুষ্ট কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্ত জুড়ে মাঠে ধান গাছের বুক চিরে বেড়িয়ে আসতে চাইছে কৃষকের স্বপ্ন। কৃষকেরা জানালেন, ১৩ উপজেলা কৃষি বিভাগের কৃষি কর্মকর্তা, উপ-সহকারি কর্মকর্তারা আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে আদর্শ কৃষকে রুপান্তরে সহায়তা করেছে। চিরিরবন্দর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক আকবর আলী, রামচন্দ্র পুর গ্রামের জালাল উদ্দিন, খানসামা উপজেলার দক্ষিণ বালা পাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নান, পাকের হাট কলেজ এলাকার ময়েজ উদ্দিন জানান, আমরা পোকা দমনের জন্য আলোর ফাঁদ, পার্চিং ও ইঁদুর নিধনের ফাঁদসহ ব্যবহার করছি আধুনিক পদ্ধতি।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় রোপা আমন ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭১৩ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্জিত হয়েছে ২ লক্ষ ৫১ হাজার ২৫০ হেক্টর। ১৩ উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ২৬ হাজার ৯৭০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ২৭ হাজার ১০০ হেক্টর, চিরিরবন্দর উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ৫১৮ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ২২ হাজার ৮১৫ হেক্টর, পার্বতীপুর উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার ২১০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ২৭ হাজার ২৪০০ হেক্টর, বীরগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার ৭৩২ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯০ হেক্টর, বিরল উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার ১০০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯০ হেক্টর, নবাবগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ২১ হাজার ৩৩০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ২১ হাজার ৪৪০ হেক্টর, ফুলবাড়ী উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৫৮০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ১৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর, বিরাম পর উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ১৩৫ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর, খানসামা উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ৭১০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ১২ হাজার ৮২৫ হেক্টর, কাহারোল উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ৯১০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ১৫ হেক্টর, বোচাগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হাজার ৭৪৮ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ১৫ হাজার ৮৫৫ হেক্টর, হাকিম পুর উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৯০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ৮ হাজার ১০৫ হেক্টর, ঘোড়াঘাট উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ৬৭৮ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ১১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমি। বিগত সময় নানা প্রতিকূলতায় কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে এবার কৃষক কোমর বেঁধে নেমেছে। শেষ পর্যন্ত কৃষক হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সব জমিতে রোপা আমন আবাদ করায় লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সরজমিনে জেলার ১৩টি উপজেলার বেশ কয়েটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর রোগবালাই তেমন নেই। দিগন্ত জুড়ে ফসলের মাঠে চারদিকে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছে। বিভিন্ন আগাম জাতের ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। ইতি মধ্যে জেলার হাট-বাজারগুলোতে নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। মণ প্রতি ধান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬’শত টাকা থেকে ৭ শত টাকা। ধানের বাম্পার ফলন আশা করছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ।