সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির তথ্য-ছবি নিতে গিয়ে এবার লাঞ্ছিত হলেন তিন সাংবাদিক। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. রুহুল কুদ্দুস ও ডা. হাসানুজ্জামন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মারুফ আহমেদের সামনেই ওই তিন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেছেন।
ডা. রুহুল কুদ্দুস ও ডা. হাসানুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে থাকা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মারুফ আহমেদের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে অবস্থা বেগতিক দেখে ডা. রুহুল কুদ্দুস ও ডা: হাসানুজ্জামান মোবাইল বন্ধ রেখে গা ঢাকা দেন।
লাঞ্ছিত হওয়া তিন সাংবাদিক হলেন- দৈনিক কালের চিত্রের স্টাফ রিপোর্টার শফিকুল ইসলাম, দৈনিক নওয়াপাড়ার সাতক্ষীরা সদর প্রতিনিধি সেলিম হোসেন ও ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর’র সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি এম. বেলাল হোসাইন।
সাংবাদিকরা জানান, মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে তারা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান। হাসপাতালে গিয়ে দেখেন ২২৮ নং রুমে তালাবদ্ধ। একই অবস্থা ২২৫ নং রুমেও। কিন্তু ততক্ষণে ঘড়ির কাটা নয়টা পেরিয়ে ১০টার ঘরে পৌঁছে গেলেও রোগী দেখার ঘরে পৌঁছায়নি ডাক্তাররা। অথচ এ সময় প্রতিটি কক্ষের সামনে গর্ভবতী মাসহ শতশত রোগীর লাইন পড়ে গেছে। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২২৮ নং কক্ষের তালা খোলা হয়।
ডা. রহিমা খাতুন কক্ষে প্রবেশ করার মিনিট পাঁচেক পর চলে যান। যাবার সময় বলে যান আজও তিনি রোগী দেখতে পারবেন না। এরপর ওই কক্ষের স্টাফ/ ওয়ার্ড বয় রোগীদের টিকিট ফেরৎ দেন। এ সময় রোগীদের সীমাহীন হয়রানি ও টিকিট ফেরত দেয়ার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার সঙ্গে সঙ্গে ডা. রুহুল কুদ্দুস কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।
একপর্যায়ে ডা. রুহুল কুদ্দুস ও ডা. হাসানুজ্জামান হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীদের ডেকে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে ফেলেন। ডা. রুহুল কুদ্দুস এ সময় সাংবাদিকদের কাছে থাকা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এরপর তিন সাংবাদিককে তারা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মারুফ আহমেদের কক্ষে নিয়ে যান। ডা: মারুফ আহমেদ তখন তার এক বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন।
সাংবাদিকরা এ সময় রোগীদের দুর্ভোগের কথা ডা. মারুফ আহমেদকে জানালেও তিনি তাতে কান না দিয়ে খোশ-গল্পে মেতে থাকেন। এদিকে হাসপাতালের পুরো করিডোর ততক্ষণে রোগীদের গোঙানিও কাতরানিতে ভরে গেছে। রোগীদের স্বজনরা হৈ-চৈ বাধিয়ে দেয়।
রোগীদের স্বজনরা জানান, সেই ভোর থেকে অপেক্ষা করছি। এখন বেলা ১১টা বাজলেও ডাক্তার আসেনি। যদিও একজন আসলেন, তিনি বললেন, “আজ রোগী দেখবেন না। তাহলে আমরা যাব কোথায়? রোগীদের কয়েকজন আক্ষেপ করে বলেন, সোমবারও এসে ফিরে গেছি। হাসপাতাল কী ডাক্তারদের আড্ডা মারার জায়গা? রোগী দেখা বাদ দিয়ে ডাক্তাররা আড্ডা মারেন। ওষুধ কোম্পানির লোকজনদের সঙ্গে সময় কাটান। অথচ ছটফট করে মরে গেলেও ডাক্তাররা ফিরেও তাকান না।”
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বিকেল পৌনে তিনটায় ডা. রুহুল কুদ্দুসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ডাক্তার হাসানুজ্জামনের অবস্থাও একই। তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে আবাসিক মেডিকলে অফিসার ডা. মারুফ আহমেদ বলেন, “হাসপাতালের দুজন ডাক্তারের কক্ষের সামনে রোগীদের ছবি তোলা নিয়ে ঘটনাটি ঘটে। হাসপাতালের ডা. রুহুল কুদ্দুস আমার কক্ষে সাংবাদিকদের নিয়ে আসেন এবং ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন আমার কাছে দিয়ে বলেন, হাসপাতালের ভেতরের ছবি তুলতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তুলতে হবে। ডা. রুহুল কুদ্দুস আমাকে প্রশ্ন করে বলেন, এরা কী সে অনুমতি নিয়েছে? তখন আমি বললাম, আমি তো এদের চিনি। এরা বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে আসেন। এর পর ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন দিয়ে ডা. রুহুল কুদ্দুস বলেন, এই তাদের ক্যামেরা। এখন কী করবেন দেখেন। এরপর বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানিয়ে আমি আমার ডিউটিতে চলে যাই। তারপর কী হয়েছে বলতে পারব না।”উৎস: নতুনবার্তা