সিসি নিউজ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষক ড. শফিউল আলমের বাসায় থাকা ছাত্রীকে নিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত ওই মেয়ের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পৌর শহরের প্রধান পাড়ায়।
মেয়েটির নাম সোনামনি বলে জানা গেছে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী। তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম। রফিকুল ইসলাম ও রেনু বেগমের মেয়ে সোনামনির গ্রেফতারের খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই নানা অজানা তথ্য বের হতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, মেয়েটির বাবা তিনটি বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রীর এক ছেলে সন্তানের মা হওয়ার পর আত্মহত্যা করেন। রফিকুল ইসলাম পরে তার আপন শ্যালিকা রেনু বেগমকে বিয়ে করেন। রেনু ও রফিকুলের তিন মেয়ে । এদের মধ্যে সবার বড় সোনামনি। অপর দুই মেয়ের নাম মনি ও মুক্তা। দুই বোনেই স্থানীয় একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।
এদিকে কিছুদিন আগে রফিকুল ইসলাম আরো একটি বিয়ে করলে সোনামনির মায়ের সঙ্গে রফিকুলের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
রফিকুলের প্রতিবেশীরা জানান, সোনামনিকে নিয়ে নানা স্ক্যান্ডাল রয়েছে। পরিবারের অশান্তির কারণে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সোনামনি।
সোনামনির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাইভা পরীক্ষার সাজেশনের জন্য তিনি শফিউল স্যারের বাসায় গিয়েছিলেন।
এদিকে ড. শফিউলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা তথ্য পাওয়া গেছে। শফিউল ইসলাম তিনটি বিয়ে করেছেন। প্রথমে তিনি প্রেম করে খালাত বোনকে বিয়ে করেন। ওই স্ত্রীর ঘরে একটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর পর প্রথম স্ত্রী আত্মহত্যা করেন। পরে শফিউল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কেরানির মেয়েকে বিয়ে করেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই তার ওই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর কিছুদিন আগে শেরপুরের এক মেয়েকে বিয়ে করেন ড. শফিউল। সে মেয়েও তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরনারী আসক্তির কারণেই কোনো স্ত্রী টিকে থাকতে পারেনি শফিউলের। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বড়মাপের অধ্যাপক হলেও গোবিন্দগঞ্জের কেউ তাকে তেমন একটা চিনত না।কারণ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় জন্ম হলেও তিনি পড়াশুনা করেছেন পাশের সোনাতলা উপজেলায়।
রংপুর সুগার মিলের কেরানি মৃত আখতারুজ্জামানের ছেলে ড. শফিউল আলম। আখতারুজ্জামানের এক ছেলে ও চার মেয়ে। নিহত হওয়ার পর থেকেই গোবিন্দগঞ্জে শফিউলের নাম উঠে আসে।
এদিকে পরিচয় প্রকাশের পর থেকেই সোনামনির বাড়িতে মিডিয়ার লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। সেইসঙ্গে বিষয়টি গোবিন্দগঞ্জে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়। কিন্তু সোনামনির বাড়িতে কেউ না থাকায় মিডিয়াকর্মীরা ফিরে যান।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সোনামনির মা রাজশাহীতে অবস্থান করছেন। এখনো তিনি বাড়িতে ফেরেননি।
নতুন বার্তা