শারমিন চৌধুরী : আজ তসলিমা নাসরিনের একটি আর্টিকেল পড়লাম। বলা যায় এই প্রথম আমি তার কোন লেখা পড়েছি। তার সম্পর্কে আগে কোন রকম আইডিয়া ছিল না। কেবল মানুষের মুখে মুখে নানান কথা শুনতাম। তবে আজ আর্টিকেলের নিচে মানুষের কমেন্ট পড়ে মনে হল মানুষ তাকে যতটা নোংরা মানসিকতার বলে তার চেয়ে তার সমালোচকরা বেশী জঘন্য এবং বাজে ভাষা ব্যাবহার করেছে।
বেশীক্ষণ চোখ রাখতে পারি নাই। কয়েকটা পড়েই আমার চিন্তাভাবনার গতি প্রগতি সব থেমে গেল। থমকে গেলাম। ভাগ্যিস আমি মানুষকে দেখে ইসলামকে জাজ করি না, তা নাহলে ইসলামিক চিন্তা ভাবনার দোহাই দেয়া এই মানুষগুলোর আচরণে কবেই নাস্তিক হয়ে যেতাম। কারণ আমি ভাবতাম ইসলাম হয়ত এভাবেই তাদেরকে ভাবতে শিখিয়েছে, এভাবেই রিয়েক্ট করতে শিখিয়েছে।
যারা কমেন্টে করেছে তাদের অনেকেরই প্রোফাইল ঘুরে দেখলাম যে মোটামুটি তারা ইসলামপন্থী ঘারানার। কয়েকটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
১। এই ইসলামিকরা কি জানে না “অন্যকে গালি দেওয়া ইসলামে হারাম” !
২। যদি তসলিমা তাদের এইসব কমেন্টের কারণে ইসলামকে আরও অপমানিত করার সুযোগ পেয়ে যায় তাহলে সেখানেও কিন্তু এই ইসলাম প্রেমী তাওহীদি জনতা গোনাহের অংশীদার হল।
৩। ভিন্নমতকে জোর জবরদস্তি করা ইসলাম শেখায় না, সুতরাং এটাও একটা অন্যায়।
৪। তাসলিমার সমালোচনায় যদি আমি তাসলিমাই হয়ে যাই তাহলে আসলে কি পার্থক্য রইলো তার আর আমার মাঝে?
৫। তারা কি মনে করে না এইসব কমেন্ট পরকালে তাদের বিপক্ষে সাক্ষী দেয়ার জন্য প্রমাণ হয়ে রইল!
৬। নতুন মানুষ যারা এইসব কমেন্ট পড়বে তারা হয়ত তাসলিমার প্রতি সিমপ্যাথেটিক হয়ে আপনাদের চিন্তা থেকে হাজার মাইল দুরে চলে যাবে।
৭। আগামী প্রজন্ম যখন দেখবে তাদের বাপ দাদারা ইসলাম প্রেম দেখাতে গিয়ে গালিগালাজ আর নোংরা কথা বলে সমালোচনা করেছে তখন তারা আসলেই কনফিউজড হয়ে যাবে যে কাদের অর্ডার তারা ফলো করবে? এই নোংরা মনের মানুষগুলোর কথা?
৮। নেগেটিভ জিনিসের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক ভাবেই একটা দুর্বার আকর্ষন থাকে। সুতরাং যে জিনিসের সমালোচনা যত বেশী করা হবে তার জনপ্রিয়তা তত বাড়বে।
৯। তাকে আইডল হিসেবে মানা শুরু করবে অনেকেই, কারণ ভিলেনদেরও অনেক ফলোয়ার থাকে, তাড়াও কারো কাছে হিরো।
১০। একজন তাসলিমা থেকে হাজার তসলিমার জন্ম নেবে। কারণ তার বিদ্রোহ অনেকের কাছে দ্রোহের আগুন- যা দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পরে। এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এমন বিদ্রোহ অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এখন সময় একটু বিচার বিবেচনা করে কমেন্ট করা। আমি মাঝে মাঝে ভাবি এই লেখকটি এক সময় শিশু ছিল , হঠাত করেই কি সে এমন হয়ে গেছে? না কি আমাদের অনেক ভুল এপ্রোচ এবং প্র্যাকটিস তাকে বিদ্রোহী হতে উস্কে দিয়েছে? ভাবনার আছে অনেক কিছু। যদি আমাদের কারণে কেউ ধর্মদ্রোহী হয় তাহলে এমন ধর্মদ্রোহী প্রতিনিয়তই জন্মাতে থাকবে, তার দায় আমাদেরকেই নিতে হবে।