সিসি নিউজ: বরাবরই তার বিরুদ্ধে অতিরিক্তি জামায়াতপ্রীতির অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগে দলীয় নেতাকর্মীদের চাপের মুখে অবশেষে ২৭ বছর ধরে আঁকড়ে রাখা খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিবের পদ ছাড়তে হলো জাফরুল্লাহ খানের।
বৃহস্পতিবার রাতে দলের বৈঠক শেষে জাফরুল্লাহ খান পদত্যাগ করেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জাফরুল্লাহ খানও পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জানান, কোনো চাপের মুখে নয়, আগামী ২৯ নভেম্বর দলের কাউন্সিল হবে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতেই তিনি পদ ছেড়েছেন।
দীর্ঘ ২৭ বছর হাফেজ্জী হুজুরের প্রতিষ্ঠিত খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন জাফরুল্লাহ খান। সম্প্রতি সম্মিলিত ইসলামী দলসমমূহ নামে আট দলের একটি জোট গঠন করেন। এতে জামায়াতে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। জামায়াতের সমর্থনে এ জোট গত ২৬ অক্টোবর হরতাল পালন করে। গোলাম আযমের জানাজাতেও অংশ নেন জাফরুল্লাহ খান।
জামায়াত রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়ার পর থেকেই জাফরুল্লাহ খান জামায়াত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসসূচি দিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। এতে জামায়াতে অংশগ্রহণ ছিল বলেও অভিযোগ করেন খেলাফত নেতারা। খেলাফতকে জামায়াতের অঙ্গসংঠনে পরিণত করার অভিযোগ করার হয় তার বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, আশির দশকে তওবার রাজনীতির ডাক দিয়ে রাজনৈতিক দল খেলাফত আন্দোলন গঠন করেন মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর। তিনি দুই দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। হাফেজ্জী হুজুরের ইন্তেকালের পর কয়েক দফা ভাঙনের মুখে পড়ে খেলাফত আন্দোলন। খেলাফত মজলিস, ইসলামী মোর্চা, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এসব ইসলামী দলের উৎস মূলত হাফেজ্জী হুজুরের দল খেলাফত আন্দোলন।