সিসি নিউজ : যুবলীগ নেতাদের হাতে লাঞ্ছিত ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র এমপি) ও জেদ্দা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী রহিম উল্যাহর বাড়ির গেটে জনসভা করেছেন নিজাম উদ্দিন হাজারী।
শুক্রবার দুপুর থেকে এমপি হাজী রহিম উল্যাহর বাড়ির গেটে সোনাগাজী-মুহুরী প্রজেক্ট সড়ক বন্ধ রেখে বিকেলে সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর বাজারে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, ‘আমি এখানে এমপি হিসেবে আসিনি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এসেছি। যেখানে নির্যাতন হবে সেখানে নিজাম হাজারী থাকবে।’
এমপি নিজাম হাজারী আরো বলেন, ‘দলবাজি অনেক হয়েছে আর দলবাজি করার সুযোগ দেয়া হবে না। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ যে-ই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সন্ত্রাস করলে জামায়াত-বিএনপিকেও ছাড় দেয়া হবেনা।’
সোনাপুর-আহম্মদপুরের মানুষ শান্তিতে নেই এমন দাবি করে নিজাম হাজারী এমপি হাজী রহিম উল্যাহকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছাড়া অন্য কোনো নেতৃত্ব চলবে না। অতীতে অনেক করেছেন, আর করতে দেয়া হবেনা। যা করেছেন সাবধান হয়ে যান। না হয় কঠিন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নিজাম হাজারীর জনসভাকে কেন্দ্র করে ফেনী থেকে জনসভা মঞ্চ পর্যন্ত শতাধিক তোরণ আর সহস্রাধিক ফেস্টুন সজ্জিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় ফেনী সার্কিট হাউজে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে অস্ত্র উঁচিয়ে এমপি রহিম উল্যাহকে লাঞ্ছিত ও মারধর করে জেলা যুবলীগের নেতারা।
এমপি হাজী রহিম উল্যাহর সমর্থকদের দাবি, সেদিনের ঘটনার সূত্রধরে নিজাম হাজারী শুক্রবার তার বাড়ির গেটে জনসভা করে শক্তির পরিচয় প্রদর্শন করেছে।
ওই ঘটনার পর হাজী রহিম উল্যাহ অভিযোগ করেছিলেন, যুবলীগ নেতারা তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন ‘ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর নেতৃত্ব বা তার নির্দেশ না মানলে তাকে ফুলগাজী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান একরামের মতো মেরে জ্বালিয়ে দেয়া হবে। ওই সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছিল।
এমপি রহিম উল্যাহর অভিযোগ, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুশেন চন্দ্র শীল, যুগ্ম আহ্বায়ক স্বপন মিয়াজী ও যুবলীগ নেতা আপনের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।