সিসি ডেস্ক: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সার্কভুক্ত ৮টি দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকের মধ্য দিয়ে অাজ রোববার শুরু হচ্ছে ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। এটি শেষ হবে সোমবার। এরপর ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের অংশগ্রহণে শীর্ষ সম্মেলন হবে আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর বুধবার ও বৃহস্পতিবার। এদিকে গতকাল শনিবার সার্কভুক্ত দেশগুলোর যুগ্ম সচিব পর্যায়ের প্রোগ্রাম কমিটির বৈঠকে সার্কের তিনটি কেন্দ্র বন্ধ ও চারটি কেন্দ্র একীভূত করার প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্র বন্ধের প্রস্তাব গৃহীত হলেও একীভূত চারটি সংস্থার প্রধান কার্যালয় কোথায় হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একীভূত চারটি কেন্দ্রের প্রধান কার্যালয় স্থাপনে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব প্রস্তাবের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আগামী সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের প্রোগ্রাম কমিটির বৈঠক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নেপালের কাঠমান্ডু পোস্ট, রিপাবলিকাসহ একাধিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় সার্ক প্রোগ্রাম কমিটির বৈঠক শুরু হয়। এতে অন্য ১০টি সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে মিল থাকায় কমিটির বিগত বৈঠকের সুপারিশ অনুযায়ী সার্ক তথ্য কেন্দ্র, সার্ক মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এবং সার্ক নথি সংগ্রহকেন্দ্র বন্ধ করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এছাড়া সার্ক বনায়ন কেন্দ্র, সার্ক দুর্যোগ মোকাবেলা কেন্দ্র, সার্ক উপকূল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র একীভূত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। তবে একীভূত চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় কোথায় হবে সে বিষয়ে মতৈক্য হয়নি বৈঠকে। প্রথমে ভারত একীভূত কেন্দ্রের প্রধান কার্যালয় স্থাপানের প্রস্তাব দেয়। এরপর একে একে বাংলাদেশ, ভূটান, মালদ্বীপ এবং পাকিস্তান এ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেয় ও নিজেদের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। গতকালের বৈঠকে এবারের সম্মেলনে কাঠমান্ডু ঘোষণার খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে উঠবে এ খসড়া। স্ট্যান্ডিং কমিটি খসড়া চূড়ান্ত করার পর তা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে উঠবে। সেই বৈঠকে সম্মেলনের কাঠমান্ডু ঘোষণা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। এবার কাঠমান্ডু ঘোষণায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সড়ক ও রেলযোগাযোগ সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। এ বিষয়ে দু’টি চুক্তিও হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি দু’টি হলে ভারতের সীমানা ব্যবহার করে নেপাল ও ভূটান থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশ সীমান্তে আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এদিকে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে শনিবার দুপুরে কাঠমান্ডু পৌঁছেছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে আজ রোববার কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।