রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালাকান্দি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই-এর পছন্দের প্রার্থী ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নির্বাচিত অবিভাবক সদস্যদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করায় শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এ দিকে প্রধান শিক্ষকের উপর লাঞ্চিত ও হামলার অভিযোগ এনে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অপর দিকে গত ১৫ জুলাই/২০১৩ ইং সভাপতি নির্বাচনে রেজুলেশনে জোর পূর্বক স্বাক্ষর করে নেয়ার অভিযোগ এনে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্য ও ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মমিন সরকার বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষককে প্রধান আসামী করে ১০ জনের নামে কুড়িগ্রাম আদালতে একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন। সরজমিনে জানা যায়, উপজেলার উমর মজিদ ইউপি’র বালাকান্দি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৪১ ইং সনে স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জমির পরিমাণ প্রায় ৩ একর। বর্তমান প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ওই প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষকসহ ৩টি শূন্যপদ রয়েছে। গত ০২ জুলাই/২০১৩ ইং ম্যানেজিং কমিটির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও প্রায় দেড় বছর ধরে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হাই নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে তার দূরত্ব ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ এলাকার কিছু স্বার্থন্বেষী মহলের যোগসাজসে এডহক কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিলে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এরই সূত্র ধরে গত বুধবার সন্ধ্যায় ফরকেরহাট ফেডারেশন বাজারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যরা এডহক কমিটি গঠন করার বিষয়টি জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠান প্রধান ক্ষিপ্ত হন এবং উভয় গ্র“পের মধ্যে হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষক ও এলাকার কয়েকজন স্বার্থন্বেষী মহলের ইন্ধনে বৃহস্পতিবার দুপুরে বহিরাগত কিছু যুবকদের সমন্বয়ে ক্লাস বন্ধ রেখে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ১০ কি. মি. পায়ে হেঁটে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের বিচারের দাবীতে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ ৮ জনের নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ম্যানেজিং কমিটিÍ সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মমিন সরকার, মো. গোলাম রুহানী ও মোফাছেল সরকার বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ নেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। বাকী দু’টি শূন্য পদেও তার পছন্দের প্রার্থীকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়ার পায়তারা চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তারা আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের পুকুরসহ প্রায় আড়াই একর আবাদী জমি তিনি লিজ দেন ইচ্ছেমত এবং প্রতিষ্ঠানের ফরম ফিলাপ, সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষার অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন, প্রতিষ্ঠান ফান্ডের অর্থ আত্মসাত করে আসছেন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে তার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, গত ৩দিন ধরে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। তার বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগ সঠিক নয়। ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে যে সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলতঃ ও্ই এলাকার জনৈক এক সচিবের ভাইকে সভাপতি না করায় আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাজেদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, শীঘ্রই তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের পর থেকে দুটি পক্ষ সভাপতি নির্বাচন করতে একমত হতে পারেনি। দু’দফা বৈঠক হলেও তা সমাধানে পৌঁছেনি। বর্তমান বিষয়টি নিয়ে আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে বসার প্রক্রিয়া চলছে। সবমিলিয়ে বর্তমানে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এসব সমস্যা নিরসন কল্পে অবিলম্বে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।