মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দীর্ঘদিন প্রায় ছয় মাস পর পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে পুনরায় কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। শুক্রবার মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানিকভাবে ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়। কয়লা উত্তোলন শুরু হওয়ায় খনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
চলতি বছরের ১০ মে বড়পুকুরিয়া খনির ভূ-গর্ভে ১২০৫ কোলফেইজ এ কয়লা কাটার সময় উপরের পানির পকেট ভেঙ্গে পড়ে জলাসয়ের সৃষ্টি হয়। খনির ভূ-গর্ভে স্থাপিত পাম্পের সাহায্যে পানি সরিয়ে ফেলে কয়লা উৎপাদনের চেষ্টা করে। ঐ সময় ভূ-গর্ভে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে কয়লা উত্তোলন বন্ধ করে দিয়ে কোলফেইসটি সাময়িকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষনা করে খনি কর্তৃপক্ষ।
এর পর ১২১২ নং কোলফেইসের উন্নয়ন করে মাইনিং ইকুইপমেন্ট বসিয়ে কয়লা উত্তোলন শুরুর কাজ চলে। ১২১২ নং কোলফেইস এ লংওয়াল মাল্টি স্লাইস পদ্ধতিতে কয়লা কেটে উত্তোলন করা হচ্ছে। এর পর টপ কোল কেভিং পদ্ধতিতে পুরোদমে প্রতিদিন ভূ-গর্ভ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন শুরু হবে। কয়লা উৎপদন শুরু হওয়ার আগে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির মসজিদে শুক্রবার মিলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সকল উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমিনুজ্জামান জানান, খনির ভূ-গর্ভ থেকে অচিরেই পুরোদমে কয়লা উৎপাদন শুরু হবে। উৎপাদন শুরুর পর পার্শবর্তী কয়লাভিত্তিক ২৫০ মেগওয়াড তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা মজুদ রেখে বাকি কয়রা জ্বালানীর জন্য ইট ভাটার মালিকদের কাছে বিক্রি করা হবে। ইট ভাটার মালিকদেরকে পর্যাপ্ত পরিমানে কয়লা সরবরাহ করা হবে। কয়লা সরবরাহে কোন বিঘ্ন ঘটবে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে কয়লা উত্তোলন বন্ধ থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।