ঢাকা: নয়াপল্টনের ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় অফিসে তালা লাগিয়ে দিয়েছে পদবঞ্চিতরা। মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে বিক্ষোভ করার সময় এ কাণ্ড ঘটান ছাত্রদলের পদবঞ্চিতরা। পাশাপাশি আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়েছে তারা। অন্যথায় আগামী বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর ঘোষিত ছাত্রদলের কমিটি প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন ওই কমিটির পদবঞ্চিতরা। প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী ওই বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারী নেতা তারিকুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের এই সঙ্কট নিরসনে আমাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে এ্যানী ও টুকু ভাই প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখান করেছি। আলোচনার পূর্বশর্ত হচ্ছে এ্যানী ও টুকু ভাইকে ছাত্রদলের অভিভাবকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি। তাহলেই আলোচনার পথ সুগম হবে। এজন্য আমরা আমাদের মায়ের (বিএনপি চেয়ারপারসনের) কাছে আবেদন জানাচ্ছি।’
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন- তরুন দে, ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, নুরুজ্জামান মুকিত লিংকন, হাবিবুর রহমান সুমন, মাহবুবুল আজম, আহসানুল হক রুবেল, মুনিরুল ইসলাম রয়েল, রুহুল ইসলাম মনি, সাহাবুদ্দিন মুন্না, মাহবুবুর
রহমান পলাশ, আনিসুর রহমান সুজন, আনিসুর রহমান রানা, দবির উদ্দিন তুষার, আসাদ, আনোয়ার হোসেন, রবি মিঠু মোশাররফ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ওই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করে আসছেন এই নেতাকর্মীরা।
একই সঙ্গে তারা-বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। এছাড়া তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ
প্রত্যাহারের দাবিও রয়েছে তাদের।
কমিটি ঘোষণার পর তা বাতিলের পক্ষে-বিপক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এর জের ধরে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ও বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা গত ৭ নভেম্বর রাজধানীর নভোথিয়েটারের সামনে বিএনপির
ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর গাড়িতে হামলা করে।
এরই মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এবং সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদও সংগঠনটির বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজকে বহিষ্কার করে।
তিন নেতাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি জাভেদ হাসান স্বাধীন, তরুণ দে, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম টিটু, ফেরদৌস আহমেদ মুন্না এবং সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রয়েলকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়। এছাড়া ছাত্রদলের চকবাজার থানা শাখার সভাপতি নাহিদুল ইসলাম নাহিদ এবং ছাত্রদলের চকবাজার থানা শাখার সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন বাবুকেও স্বশরীরে ছাত্রদলের অফিসে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়।