দিনাজপুর প্রতিনিধি : নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারী নির্যাতন বিরোধী চেতনা এবং সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে অুনষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফা বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, তৎকালীন সমাজে প্রচলিত অমানবিক সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠলে নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে তৎকালীন সমাজে বিধবাদের করুণ। অবস্থা অনুধাবন করে বিধবা বিয়ে শুরু হয়। নারী নির্যাতনের ঘটনা এখানেই শেষ নয়। স্ত্রী পেটানো, শারিরিক বা মানষিক নির্যাতনকে পুরুষেরা অতি সাধারণ ঘটনা বলে মনে করে। যদিও এটা কোন সাধারণ ঘটনা নয়। এরপরে আসে তালাকের বিষয়টি। মুখে তালাক বললেই তালাক হয় না। কিন্তু এক শ্রেণীর ধর্মান্ধ মানুষ গ্রাম্য মুসলিম নারীর জীবনে নিয়ে আসে এক ধরনের অত্যাচার। হিল্লা বিয়ের ফতোয়া জারি করে তারা এটা মেয়ের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়। পারিবারিক বিরোধের সুযোগ নিয়ে মেয়েদের উপর পাশবিক অত্যাচার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কিন্তু যে পাশবিক অত্যাচার করে তার কোন বিচার হয় না, বিচার হয় মেয়েটির। তাকে ফতোয়া দিয়ে দোররা মেরে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়। সমাজের চোখে হেয় করা হয়। এই দুর্বিসহ জীবন নিয়ে আমাদের মেয়েরা জীবনযাপন করছে। এছাড়াও ধর্ষণ, গণধর্ষণের পর হত্যা, অপহরণ, এসিড নিক্ষেপ, যৌতুকের কারণে পুড়িয়ে হত্যা, নারী-শিশু পাচার, পর্ণোগ্রাফির মত জঘন্য নারী নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। এই সকল ঘটনার শিকার যারা অধিকাংশ সময় তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না, কখনও বা আইনের আশ্রয় নিলেও বিভিন্ন কারণে ন্যায় বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন। এসব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যমান আর্থ-সমাজিক অবস্থাসহ নারীর প্রতি পুরুষের অধ:স্তন দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে নারী নির্যাতনের ঘটনা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কন্যা শিশুর বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬ করার প্রস্তাব আমাদের স্তম্ভিত করেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত ১৮ বছর বয়সের পূর্বে কন্যাশিশু পূর্ণ বয়স্ক হিসেবে বিবাহযোগ্য বলে না হওয়ায় এ বিষয়ে আমরা পূর্বের আইনটি বহাল রাখার দাবি জানান।
হত্যাকারী, নারী নির্যাতনকারীসহ সকল ধরণের অপরাধীদের বিচার, সমাজে অপরাধ দমনে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে করা, আইন প্রণয়ন ও সংস্কার বা সংশোধন করলে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতন হ্রাস পাবে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি কানিজ রহমান, সাবেক সভাপতি আজাদি হাই, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা সানু, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার প্রমুখ।