নাহিদা পারভীন রিপা, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাও) : ঠাকুরগাও জেলার পীরগঞ্জ উজেলায় বেগুনের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু চাষীরা নায্য মূল্য না পাওয়া হতাশ হয়ে পড়েছে।
কৃষি অফিস সূত্র মতে, এবারে শীতকালীন মৌসুমে সবজির চাষ প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে হয়েছে, যার মধ্যে বেগুন মুলা কপি ইত্যাদি সবজির চাষ রয়েছে। প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষীর সংখ্যা আনুমানিক ৪-৫ হাজার মতো। উপজেলায় স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারে বেগুনের চাহিদা অনুযায়ী যোগানের পরিমান অনেক বেশি থাকায় বেগুনের দাম তেমন নেই, মাঠপর্যায় কৃষকদের সঙ্গে খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারী বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যে, উপজেলার বাইরের বাজারে তেমন কোন চাহিদা নেই। তাছাড়া এ মৌসুমে পূর্বে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেগুনের আবাদ ব্যাপক হয়েছে যার ফলে সে সব জায়গা হতে বিভিন্ন বাজারে ব্যাপক যোগানের সৃষ্টি হয়েছে। ভেলাতৈড় গ্রামের বেগুন চাষী গিয়াস উদ্দীন বলেন বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে এমনও কি নতুন বিয়ে করেও দানের টাকা সহ প্রায় ২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে ২ একর জমিতে। আইজ বেগুন বিক্রি হয় না, যদিও ২/১ টা পাটি আসছে তাও আবার ১২০-১৩০ টাকা মন, যার প্রতি কেজি ২/৩ কেজি। বেগুন যদি ১ সপ্তাহে ৫০ মন হয় তাহলে দাম লাগবে ৬ হাজারে মত বেগুনে কীটনাশক ¯েপ্র, পানি, সার দেওয়া ৫ হাজার ৫শ’র টাকার মত আর নিজের পরিবারে খাটনি তো আছেই, ঐ গ্রামের শাহাআলম ও রাজীব বেগুন চাষী দুঃখ করে বলেন মানুষের জমি লিজ নিয়ে ধার কর্জ করে এমন কি বাড়ীর গরু ছাগল বিক্রি করে বেগুনে খরচ ঢুকাইলাম বেগুন আবাদ করে এই দশা, গতবার না হয় হরতাল অবরত ছিল, এবার কি ছিল? এভাবে দাম না থাকলে নিজের ভিটাবাড়ী বিক্রি করে ধারকর্জ পরিশোধ করা ছাড়া কোন উপায় নেই, পাওনাদার সহ্য করবে না।
উপজেলায় নাককাটি, ঘুঘুয়া, সেনুয়া, ভেলাতৈড়, গোদাগাড় ও বৈরচুনা গ্রামে অনেক বিএ, এম এ পাশ করা বেকার যুবক বেকারত্ব দুরীকরনের জন্য জমি লিজ নিয়ে বেগুন চাষ করলে বর্তমান বাজারের মুল্য নায্য দাম না পাওয়ায় তারা আজ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। তাদের বেকারত্ব দুরীকরনের তো দুরের কথা আরও অভাবে পড়ে গেল। “তাদের সাথে কথা বললে সব ভাগ্যের দোষ”, টাকা আর মামার জোড়ে চাকুরি তো হয়না আর এখন উপরওয়ালাও দেখে না।