• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নিশিথে যাইয়ো ফুলবনে রে ভ্রমরা !

Roniগোলাম মাওলা রনি: গত কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম আবহমান বাংলার সহজাত কতগুলো অভ্যাস এবং অভিব্যক্তি নিয়ে। বাঙালীর প্রেম, পরিনয়, সন্তান উৎপাদন, খাদ্য, ঘুম, কর্ম, অলসতা, বিনোদন কিংবা ধর্মকর্ম ইত্যাদি সবকিছু মনের মধ্যে বার বার উঁকি দিচ্ছিলো। পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষের সঙ্গে এই ভূখন্ডের মানুষের যেনো সবকিছুতেই অমিল। আমরা সবকিছু মেখে খেতে ভালোবাসি। মাখানো বললে ভুল হবে- আসল ঘটনা হলো চেটকিয়ে ফেটকিয়ে এমন ভাবে মুখে পুরি তা অন্যজাতির লোকেরা দেখলে হয়তো বমিই করে দিবে। গরম ভাতে ঘি, দুধভাত কলা দিয়ে চেটকিয়ে খাওয়া – আম-দুধ কাঠাল কলা একসঙ্গে ভাত-মুড়ি বা চিড়া দিয়ে মাখিয়ে পাঁচ আঙ্গুল ডুবিয়ে খাওয়া কিংবা পান্তা ভাত বিচিকলা দিয়ে খাওয়ার মতো অভ্যাস গুলো এশিয়ার অন্যকোন দেশে নেই। বাঙ্গালীর একেকটা অভ্যাস নিয়েই হয়তো একেকটা মহাকাব্য রচনা করা যেতে পারে।

আজ আমি অতোসব বিষয় আলোচনা করে বিষয়বস্তু গুলোকে আমদুধের মতো মাখিয়ে ফেলে সম্মানীত পাঠকগণকে ধাঁধার মধ্যে ফেলবো না। তার চেয়ে বরং জীবনের অপরূপ একটি উপসর্গ নিয়ে কথা বলি। শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে বাঙালীর বিখ্যাত একটি গানের কয়েকটি কলি। এস. ডি বর্মনের গান। অবিভক্ত ভারতের এই কৃতি বাঙালীকে আমরা ডাকতাম বড় কর্তা বলে। তাঁর জন্মকালে অর্থাৎ ১৯০৬ সালে ত্রিপুরা ছিলো বৃহত্তর বঙ্গের অংশ। তখন কুমিল্লা এবং আগরতলা ছিলো একই বৃন্তে ফুটন্ত দুইটি গোলাপ। বড় কর্তার বাবা এন.ডি বর্মন ছিলেন ত্রিপুরার মহারাজা মানিকিয়া দেব বর্মনের পুত্র। আর তার মা নিরুপমা দেবী ছিলেন মনিপুরের রাজকন্যা। বড় কর্তার জন্ম, শৈশব, কৈশর এবং যৌবনের একটি উল্লেখ যোগ্য সময় কেটেছে কুমিল্লা শহরে। তিনি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর কলকাতা চলে যান এম এ পড়ার জন্য- তারপর থেকে বড় কর্তার জীবনে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

আমাদের বড় কর্তা বাংলা গানের ইতিহাসে এক জীবন্ত কিংবদন্তী। শুধু কি তাই – ভারতীয় সঙ্গীতে তার সম পর্যায়ের গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক একজনও নেই। একশটি ভারতীয় চলচিত্রের অসাধারণ সব সঙ্গীত তিনি রচনা করেছেন। তারপর সেই গুলোতে নিজেই সুরারোপ করেছেন। ২৭/২৮ চলচিত্রে নিজে কন্ঠ দিয়েছেন। বাকী গুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন লতা মুঙ্গেশকর, মোহাম্মদ রফি, গীতা দত্ত, মান্না দে, কিশোর কুমার, হেমন্ত কুমার, আশা ভোঁসলে, সামসাদ বেগম এবং তালাত মাহমুদের মতো কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পীগণ।

বড় কর্তা বাংলা ছেড়ে মুম্বাই চলে গিয়েছিলেন হিন্দী গানের জন্য। হিন্দী গানের বিশাল ভান্ডারে তিনি তাঁর মেধা ও শ্রম পুরো দুস্তর নিয়োগ করার পরও বাংলাকে ভুলেননি- ভুলেননি তার জন্মস্থান কুমিল্লাকে। আর তাইতো তার কণ্ঠে ফুটে উঠেছিলো বাংলা গানের অসাধারণ সব সুর লহরী যার উচ্চতা, জনপ্রিয়তা এবং বাস্তবতা আজ অবধি কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। কর্তা বাবুর শত শত অমর বাংলাগানের মধ্যে শিরোনামের গানটি অন্যতম। এই গানের মাধ্যমে আবহমান বাংলার ব্যাকুল পুরুষদের প্রেমিক মনের যে আকুতি ফুটে উঠেছে সেই বিষয় নিয়েই আজকে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

গানের শুরুতেই প্রেমিক তার প্রেমিকাকে আহবান জানাচ্ছে ‘প্রাণ ভ্রমরা’ বলে। তারপর বলছে ‘নিশিথে যাইয়ো ফুল বনে। জ্বালাইয়া চান্দেরও বাতি- আমি জেগে রবো সারা রাত্রি গো, আমি কবো কথা শিশিরেরও সনে রে ভ্রমরা-নিশিথে যাইয়ো ফুল বনে।’ বাংলা গানের ভাষার এই মাধুর্য, মনের আকুতি, রুচি এবং আভিজাত্য- পৃথিবীর অন্যান্য ভাষার গান থেকে আলাদা। গানের এই বৈশিষ্টের মাধ্যমেও বাঙালীকে চেনা যায়। লেখার শুরুতেই বলেছিলাম বাঙালীর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে। বহু পদের সম্মিলনে খাদ্যকে যেমন বহু রক্সে রঞ্জিত করে ভিন্ন ভিন্ন আকার দিয়ে বাঙালী তা নিজে গ্রহণ করে এবং অপরকে পরিবেশন করে তেমনি গানের ক্ষেত্রেও সে স্থান, কাল, পাত্র, পরিবেশ সবকিছু বিবেচনার মধ্যে এনে তারপর উপস্থাপন করে।

বাঙালী মনের প্রেমের সহজাত পরিচয় কি ? এটা কি কেবল কামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাকি অন্য কিছু। ইউরোপের সমাজ ব্যবস্থায় নারী পুরুষের সম্পর্কটা দেহ নির্ভর। তারা দৈহিক মিলনে রত হবার জন্য খুব বেশী সময় ব্যয় করে না। রাস্তা ঘাটে, পথে প্রান্তরে, ক্লাবে কিংবা ডিসকোতে নারী পুরুষ একে অপরকে দেখার পর অতি দ্রুত এবং খুব সহজে একে অপরের শরীরের প্রতি আকর্ষন অনুভব করে। এই আকর্ষনকে বাস্তবতায় নিয়ে আসার জন্য তারা বাঙালীর মতো ব্যাকুল হয়ে হৃদয়ের দরজা খুলে ধরে না। বরং রূপ, যৌবন, অর্থবৃত্ত বা আভিজাত্যকে সামনে ধরে তারা পরস্পরকে আকর্ষন করে। অন্যদিকে বাঙালী তার চিরায়ত অভ্যাসের কারণে শরীরের পরিবর্তে মনকে প্রাধান্য দেয়। মনের ভাব গাম্ভীর্য্য এবং রস মঞ্জরী ফুটিয়ে তোলার জন্য সে প্রকৃতির আশ্রয় নেয়। কখনো আকাশ থেকে তারা, চাঁদ থেকে আলো, নদী থেকে কুল কুল ধ্বনি কিংবা পাখীদের নিকট থেকে বাহারী কলতান ধার করে তারা একে অপরকে উপহার প্রদান করে।

আলোচ্য গানে প্রেমিক তার প্রেমিকাকে আহবান করছে রাত্রি বেলায় ফুলের বনে আসার জন্য । সে কোন গভীর বন জঙ্গল, নির্জন ফসলের ক্ষেত কিংবা নির্জন বাড়ীর কথা বলেনি। যদি বলতো তবে একথা সহজেই বোঝা যেতো প্রেমিক কেবল প্রেমের জন্য নয় তার সঙ্গীনীকে ডাকছে কামের জন্য – নিখাদ ফ’র্তির জন্য। বাঙালী কেবল দেহ নিয়ে তৃপ্তি লাভ করতে চায় না। সে চায় মনোজগতে প্রেমের তীব্র ঝড় বইয়ে দেবার জন্য। একারণে প্রেমিকাকে চাঁদনী প্রহর রাতে সে ফ’লবনে যাবার জন্য আহবান করেছে। ফুলের সুভাস আর শিশিরের কথা বলে সে প্রেমের সময় কালটাকে ও সামনে নিয়ে এসেছে। সে হেমন্ত কালকে তার প্রেম নিবেদনের জন্য উত্তম বলে বিবেচনা করছে।

প্রেমিকার জন্য প্রেমিকের যে ব্যাকুলতা তাতে কোন রকম অভদ্রতা বা অস্থিরতা নেই। নেই কোন রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান। প্রেমিক বলছে না যে, তোমাকে আসতেই হবে। যদি না আসো তবে তোমার ঠ্যাং ভেঙ্গে ফেলবো কিংবা তোমার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবো। ওসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, জোরাজুরি কিংবা অস্থির চিত্ত নিয়ে বাঙালীর প্রেম কোনদিন সফলতার মুখ দেখেনি। সফলতার জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয় চরম ধৈর্য্য, বিনয় ও ভদ্রতা সহকারে। গানের মধ্যে প্রেমিক বলছে -আমি তোমার জন্য সারাটি রাত ফুলের বনে বসে অপেক্ষা করবো। তোমার যদি আসতে দেরী হয় কিংবা তুমি যদি নাও আসতে পারো তবুও আমি তোমার জন্য সারাটি রাত অপেক্ষা করবো। নিঃসঙ্গ সেই রাতে জোস্না, ফুলের সুবাস এবং জোস্নার ঝলমলানীতে ফুলের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে প্রেমিক তার প্রনয়নীর অবর্তমানে হেমন্তের মিষ্টি শিশিরের সঙ্গে কথা বলে সময় পার করে দেবে হয়তো ভোর রাত অবধি।

বাঙালীর এই যে রুচিবোধ, অভিজাত্য, মনের রস মঞ্জুরী এবং চরিত্রের পরম ধৈর্য্য যা তাকে করে তুলেছে অনন্য – বানিয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী মানুষ আর পরিনত করেছে বিশিষ্ট এক জাতিতে। এ জাতির মানুষকে ভদ্রতা, বিনয় এবং মিষ্টি কথার মাধ্যমে অনেক কিছু করানো সম্ভব। অন্যদিকে অভদ্র আচরন, কর্কশ ব্যবহার কিংবা অত্যাচার করে বাঙালীকে দিয়ে কিছুই করানো সম্ভব হয়নি। আমাদের দেশে একটি প্রচলিত প্রবাদ হলো – যেমনি কুকুর – তেমনি মুগুর। এটি কিন্তু আদৌতে আমাদের দেশের প্রবাদ ছিলো না। এটি এসেছে ইংরেজদের দেশ থেকে। ওসব দেশের কুকুর গুলো বড়ই বেয়াদব, হিংস্র আর অসভ্য। অন্যদিকে আমাদের কুকুর গুলো এমন নয়। আমাদের গুলো একটু ঘেউ ঘেউ করে কিন্তু লাঠি দেখানো লাগেনা – কেবল ধমক দিলেই ঘেউ ঘেউ বন্ধ করে দুরে চলে যায়। কাজেই যেমন কুকুর তেমন মুগুরের শ্লোগান দিয়ে বাঙালীকে জয় করা যায়নি বা যাবে না।

বাঙালীর গানের পর যদি নৃত্যকলার কথা আলোচনা করি তাতেও দেখা যাবে স্বতন্ত্র এক বৈশিষ্ট। আবহমান বাংলার শিল্প-সাহিত্য, নৃত্যকলা, সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি বিশ্লেষন করলে একটি বিষয় প্রতীয়মান হয় যে, এই জাতি তাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য নিয়ে রোমন্থন করতে ভালোবাসে। গল্প গুজব, হাসি তামসা, ঠাট্টা মস্করা এবং খানাপিনা যেনো বাঙালী সমাজের এক চিরায়ত রীতি। আরেকটি বিষয় এজাতিকে অনন্য বৈশিষ্টের অধিকারী করেছে। বাঙালী অলসতাকে পছন্দ করে। নদীতে যখন বান ডাকে- আকাশে যখন গুড় গুড় শব্দে শুরু হয় মুসলধারে বৃষ্টি তখন বাঙালী কাঁথা মুড়ি দিয়ে দুচোখ বন্ধ করে কান দু’ টোকে সজাগ রাখতে রাখতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে তা সে নিজেই টের পায় না।

জীবনের সব ক্ষেত্রে বাঙালীর বহু মাত্রিকতা অর্থাৎ সব কিছু মেখে খাওয়ার অভ্যাস কিংবা অনেক সাজ সজ্জা, আদর আপ্যায়ন করে প্রিয়জনকে কাছে টানার আকুতি এবং সহজাত স্বপ্ন ও অতীত স্মৃতি স্মরণ করার অভ্যাসকে মূল্যায়ন করলে একটি বিষয় প্রতিভাত হয়ে উঠে। আর তা হলো – এ জাতি কোন কিছু ভুলে যায় না। আর ভুলে না যাবার কারণে তারা হয় অতিমাত্রার কৃতজ্ঞতাবোধ সম্পন্ন নয়তো – অতিমাত্রার প্রতিহিংসা পরায়ন। বাঙালীর আরেকটি বৈশিষ্ট এবং সেই বৈশিষ্ট নিয়ে একটি চটুল গল্প বলে আজকের লেখা শেষ করবো। বাঙালীর এই বৈশিষ্ট হলো – তারা কোন কিছু ফেলে দেয় না। নিজেদের তৈরী বা ব্যবহার্য জিনিস কদর্য হয়ে গেলেও তারা ঘৃনাভরে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে না। ফলে আমাদের সমাজের বসতভিটা, বৃদ্ধপিতামাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ী কখনোই নবীন প্রজন্ম কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয় না। অন্যদিকে নিজের এই মন মানষিকতার জন্যই তারা পরিবার, সমাজ সংশার, জন্মভূমি এবং জন্মস্থান সম্পর্কে হৃদয়ে ধারণ করে প্রবল এক মমত্ববোধ, শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা। বাঙালী সে লন্ডনেই থাকুক কিংবা নিউইয়র্কে- কিছু আসে যায় না- নির্দিষ্ট সময় পর তাকে দেশে আসতেই হবে আর গ্রামে একটি সুন্দর বাড়ী করতে হবে- সঙ্গে স্বপ্ন দেখতে হবে আবহমান বাংলার লাল শাড়ী পরা টুকটুকে সুন্দরী একটি বউ !

বাঙালী কোন কিছু সহজে ফেলে দেয় না। খাবার তো নয়ই। আমার মনে হয় বাঙালীরাই একমাত্র জাতি যারা সবচেয়ে কম খাদ্য অপচয় করে। আমাদের দুধ পঁচে গেলে আমরা দই বানিয়ে খাই। ডাল পঁচে গেলে ভর্তা বানাই এবং ভাত পঁচলে জাউ বা পাতলা খিচুড়ী বানিয়ে খাই। তবুও ফেলি না। এই সংক্রান্ত একটি গল্প বলছি । পীর সাহেব গ্রামে বেড়াতে এসেছেন জৈষ্ঠ মাসে। গৃহস্থ ভারী আদর করে পীর সাহেবকে বাড়ীতে আশ্রয় দিয়ে জান-প্রাণ দিয়ে তাকে আপ্যায়ন করছে। গাছের শ্রেষ্ঠ কতগুলো পাকা মিষ্টি আম এবং নতুন বিয়ানো গাইয়ের মিষ্টি দুধ হুজুরের সামনে হাজির করা হলো। হুজুর খুশিতে টগবগ করতে করতে বড় একটি চিনা মাটির সানকিতে আমও দুধ আচ্ছা মতো মাখলেন। তারপর সেই আম দুধের মিশ্রনের দিকে তাকিয়ে কি যেনো ভাবলেন। এরপর ভক্তকে হুকুম করলেন হাত ধোয়ার পানি, চিলোমচি এবং একটি গোল চামচ আনার জন্য। ভক্ত শ্রদ্ধাভরে গুরুর হুকুম তামিল করলেন। হুজুর পানি দিয়ে চিলোমচিতে হাত ধুলেন, গামছা দিয়ে হাত মুছলেন এবং গোল চামচটি হাতে তুলে নিলেন। সবশেষে ভক্তর দিকে তাকিয়ে বললেন- বাবা- একটু বাইরে যাওতো- আমি এখন খাবো। হুজুরের অদ্ভুত কান্ড দেখে ভক্ত আর কৌতুহল চেপে রাখতে পারলোনা। বললো – হুজুর দয়া করে বলবেন কি কেনো আপনি আম দুধ হাত দিয়ে মাখিয়ে চামচ দিয়ে খাবেন এবং সবাইকে দুরে সরিয়ে দিয়ে নির্জনে একাকী বসে খাবেন ? হুজুর বললেন – প্রিয় বৎস ! শোন ! আমদুধ চেটকিয়ে ফেটকিয়ে মাখানোর পর ঐগুলোকে দেখতে কেমন যেনো আমাশয় রুগীর বিষ্ঠার মতো মনে হচ্ছিলো। তাই হাত দিয়ে না খেয়ে চামচ দিয়ে খাবো। তোমার সামনে এগুলো খেতে লজ্জা লাগতে পারে- তাই একাকী খাবো। ভক্ত আশ্চর্য হয়ে বললো- হুজুর ভালো না লাগলে ফেলে দিলেই তো পারেন । হুজুর বললেন- নাউজু বিল্লাহ ! রোজ কিয়ামতে যদি আম আর দুধ আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে, ব্যাটা খাইতে পারবানা তাইলে চ্যাটকাইলা ক্যান তখন আমি কি জবাব দিবো ?

লেখক : রাজনীতিক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ