আতাউর রহমান, রাজিবপুর: ভারতের সীমান্ত ঘেষা ও জেলা শহর থেকে নদী বিচিছন্ন রাজিবপুর ও রৌমারীতে ঝেঁকে বসেছে শীত। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে নদী বিচিছন্ন শতাধিক চরে ঘন কুঁয়াশার চাদরে ঢেকে ফেলে এলাকা । সারা রাত বৃষ্টির মত শিশির পড়তে থাকে। সকালে রাস্তা-ঘাট বৃষ্টিতে ভেজার মতই মনে হয়। প্রচন্ড ঠান্ডায় শিহরে উঠে চর বাসীর জীবন। পর দিন সকাল ১০/১১টা পর্যন্ত কুয়াঁশার চাদর খুলে দেয় সূর্যের আলো। স্বস্তি ফিরে আসে চরবাসীদের জীবনে । গত ৩ দিন ধরে উপজেলা ২টিতে এমনি অবস্থা বিরাজ করছে। শীতে ছিন্নমূল ও গরীব বেচারীরা পড়েছে বিপাকে। আগাম শীতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা। ঘন ঘন বন্যায় ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়ায় চর বাসীর হাতে পয়সা কড়ি নেই। এক দিকে রবি ফসল বোপনের ধুম । অপর দিকে পাল্লা দিয়েছে তীব্র শীত। ধার-দেনা করে গম,সরিষা বোপন করলেও শীতের কাপড় কেনার সাধ্য অনেকের নেই। এমতাবস্থায় অধিকাংশ জেলে,মুজুর শীতের কষ্টে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। উপজেলার জেলে পাড়ার নেহারী বেগম (৬৬) জানান,বা-রে(বাবারে)এবার শীত কেমবা আগইত(অগ্রিম) নামিল। এলাও শীতের কাহর(কাপড়) কিনবার পাইছি না। মেম্বরের ঘর গেলাম মঙ্গার নাম দিবের। তাও টাহা চাইল। টেহা(টাকা) দিবার পালেম না বলি মেম্বর মাটি কাটার নাম দিল না । এলা শীতের আঙ্গা(জামা) কেমন করি কিনিম(কিনব)। এ রকম আহাজারী চলছে উপজেলার অনেক গ্রামে গ্রামে। প্রতি দিন শীতের প্রকপ বাড়লেও এখনও পর্যন্ত সরকারী ও বেসরকারী কোন সংস্থা শীতার্তদের মাঝে এগিয়ে আসেনি। তবে সমাজের বিত্তবানদের শীতার্তদের মাঝে এগিয়ে আসার প্রয়োজন মনে করছেন এলাকাবাসী।