সিসি ডেস্ক: সৈয়দপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র তুলশীরাম রোডে অবস্থিত ডক্টরস ক্লিনিক। ক্লিনিকের অবকাঠামো ও সাজসজ্জা অভিজাত শ্রেণীর হওয়ায় সৈয়দপুর সিংহভাগ লোকের ধারণা চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে ভাল। কিন্তু ভিতরের চিত্র আলাদা। ক্লিনিকের নিজস্ব কোন ডাক্তার নেই, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নেই কোন নার্স, সাধারণ রোগীরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন এবং গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। ক্লিনিক মালিক মুক্তা নিজে ডাক্তার না হলেও নিয়মিত রোগী দেখেন ও প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন। তাহার প্রদানকৃত প্রেসক্রিপশন ফলো করতে হাজার হাজার টাকা চলে গেলেও রোগীর অবস্থা ভাল হচ্ছে না। উপরন্তু কুফল বয়ে আনছে।
দু’সন্তানের জননী রুবিনা বেগম সোনাপুকুর উত্তর মাঝাপাড়া, স্বামী দিনমজুর। তিনি অভিযোগ করে জানান, গত ২৫ অক্টোবর আমার হঠাৎ পেটে ব্যথা হলে প্রতিবেশীর পরামর্শে ডক্টরস ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। ক্লিনিকের তত্ত্বাবধায়ক মুক্তা নিজেই রোগীকে নিজ ক্লিনিকে ভর্তি করেন। রোগীর হাতে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে নানান পরীক্ষা করতে বলেন। গরীব অসহায় মহিলার স্বামী দিনমজুর কষ্টে পরীক্ষার টাকা যোগাড় করেন। বহু পরীক্ষার যাবতীয় কাগজ দেখে গোল ব্লাডারে পাথর দেখা দিয়েছে বলে অতিসত্বর অপারেশন করতে হবে, না হলে রোগীর সমস্যা হবে। গরীব অসহায় দিন মজুরকে জোর করে মুক্তা রংপুর পছন্দনীয় ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পর রোগী রুবিনার পিত্ত থলি কেটে দেখা যায় সেখানে কোন পাথর নাই।
এতে রোগীর বড় ছেলে আবার ডক্টরস ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী মুক্তাকে প্রশ্ন করে, আমার রোগীর গল ব্লাডার পাথর না থাকা সত্বেও কেন অহেতুক হয়রানি ও টাকা অপচয় করা হলো। এতে মুক্তা রোগীর আত্মীয় স্বজনদের উপর চড়াও হয় এবং নানান রকমের ভয়ভীতি দেখায়। এরকম বহু ঘটনার জন্ম দিচ্ছে ডক্টরস ক্লিনিক। প্রতিদিন কোন না কোন ঘটনার জন্ম হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবার পাচ্ছেনা ভুক্তভোগী রোগীদের প্রত্যাশা। অতিসত্বর ডক্টরস ক্লিনিকের অশুভ কর্মকান্ড হতে রোধ করতে হবে।
রোগী রুবিনার বিষয়ে ডক্টরস ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী মুক্তার মুঠোফোনে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি উত্তরে বলেন, আমি একজন ডাক্তার। সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ জরিমানা ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। কিন্তু আমার ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হলে জরিমানা কিইবা হবে। বর্তমানে অসুস্থ রুবীনা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। উৎস: কালের বার্তা