জাহিদ হোসেন: দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা বিমানবন্দর স্বর্ণ চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। দেশের মানুষের কাছে বিমানবন্দর তাই সোনার খনি নামেই বেশি পরিচিতি পেয়েছে। সারা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সোনা, মাদকসহ নানা অবৈধ পণ্যের অবাধ পাচার হচ্ছে এই পথ ধরেই। বিমানবন্দরকে ঘিরে শুধু যে চোরাচালানের একটি চক্র গড়ে উঠেছে তা নয়, এটাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে একটি দুষ্ট ক্ষতের।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আয়ের খাত বৈদেশিক মুদ্রা। অথচ মাটির, মায়ের, নাড়ির টানে দেশে ফিরেই বিমানবন্দরে তারা মুখোমুখি হচ্ছেন অনাকাক্সিক্ষত টানাটানির। এই বন্দর ব্যবহার করেছেন অথচ কোনো না কোনো হয়রানির শিকার হননি, বিদেশে কাজ করেন এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এমনকি বিদেশিরাও এখানে এসে আতঙ্কে থাকেন হয়রানি থেকে শুরু করে মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার আশঙ্কায়। এসব হয়রানি তো দৃশমান। সাদা চোখেই দেখা যায়।
এ তো গেল দৃশ্যমান অনিয়মের। এর বাইরে অবৈধ মাদক, স্বর্ণ আর পণ্য পাচারের অভাব নেই এখানে। অথচ রাষ্ট্রের সব গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা এজেন্সির সরব উপস্থিতি পাওয়া যাবে বিমানবন্দরে। আছে বিমানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। অনেকদিন ধরেই বলা হচ্ছে সর্ষের ভেতরে ভূতের কথা। তারই প্রমাণ মিলল সম্প্রতি বিমানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে।
গ্রেপ্তার হওয়া কমকর্তাদের প্রত্যক্ষ জোগসাজশেই ঢাকা বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক চোরাচালানীদের স্বর্গ হয়ে ওঠেছে। নিরাপত্তায় থাকা কর্মকর্তারা যেমন চোরাচালানের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়েছেন তেমনি বিমান পরিচালনা থেকে শুরু করে পাইলটরা পর্যন্ত দলে দলে নাম লিখিয়েছেন এই দুষ্টচক্রে। অর্থের লোভে মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে এসব সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের সবার নামেই ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা খুঁজে পেয়েছেন দামি বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়িসহ পাহাড়সম সম্পদ।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তিন পদস্থ কর্মকর্তা হলেন চিফ অব প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ আসলাম শহীদ, ফ্লাইট সার্ভিস শাখার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এমদাদ হোসেন ও ব্যবস্থাপক (শিডিউলিং) তোজাম্মেল হোসেন। এদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে হারুন অর রশিদ নামে এক মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দর, উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকা থেকে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এই লেখা যখন লিখছি তখনও গ্রেপ্তার হওয়া বিমানকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবশ্য বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয় এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দিক হোসেনের অবস্থান কৌতূহলোদ্দীপক। তিনি জানিয়েছেন, তারা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। পুলিশ তাদের দায়িত্ব শেষ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে। সোনা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগে বিভিন্ন সময়ে কেবিন ক্রু, সুইপার, টেকনিশিয়ানের মতো কর্মচারীরা গ্রেপ্তার হলেও সিনিয়র পাইলট, চিফ অব প্ল্যানিং ও শিডিউলিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা এই প্রথম। তবে বিমানবন্দর ব্যবহার করে চোরাচালানের সঙ্গে যে রাঘববোয়ালরা জড়িত আছেন এমন কথা বাতাসে ভাসছে বহুদিন থেকে। এবারে যারা গ্রেপ্তার হলেন তাদের মধ্যে বিমানের ক্ষমতা কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে খ্যাত মাহমুদুল হক ওরফে পলাশ। পিতা না হলেও নিজেকে পলাশ চেয়ারম্যানের ধর্মপুত্র হিসেবে পরিচয় দিতেন। আর ধর্মপিতা বিমানের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ এর কোনো প্রতিবাদ তো করেনইনি বরং প্রশ্রয় দিয়েছেন। একই জেলার বাসিন্দা ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছেলের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরই ফায়দা লুটেছেন পলাশ।
তবে এই প্রশ্রয় কেবল বাৎসল্য যে তা মনে করার কোনো কারণ নেই। এখানে পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত আছে বলে বিমান সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস। এই বিশ্বাস কেবল ধারণাপ্রসূত নয়। নানা সময় এই দুজনের কর্মকা- এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তাদের এমন অনুসিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য করেছে বলে জানিয়েছেন বিমানের কর্মকর্তারা।
চোরাচালান থেকে শুরু করে বিমানবন্দরকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতি আর সাধারণ মানুষকে হয়রানির ঘটনা তো ঘটছেই। এগুলোই এখানে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ কি আশ্বর্য এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ কোনোদিনই চোখে পড়ে না। যে মানুষটি হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি কিন্তু খোঁজ রাখেন না এর পেছনে জড়িত জামালউদ্দিন না পলাশ। তারা জানেন এখন ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। আর তাই তাদের ক্ষোভ-দুঃখ-হতাশা সরকারের বিরুদ্ধে। এটাই স্বাভাবিক। সরকারকেও মনে রাখতে হবে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে শুরু করে দেশের পদ্মা সেতু বা হাতিরঝিল প্রকল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো বা মাথাপিছু আয় এমডিজি অর্জনে স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা এসব সাফল্য তাদের কাছে কোনো অর্থই বহন করে না। যে দেড় কোটি মানুষ এই ঢাকা বিমানবন্দর হয়ে দেশে আসে তারা জানে তাদের রক্ত-ঘামে বাংলাদেশের অর্থনীতি গড়ে উঠলেও তাদের দেশ স্বাগত জানাচ্ছে সীমাহীন হয়রানির মাধ্যমে। বিমানবন্দর হয়ে মানুষ ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। তারা যে বার্তা বহন করে নিয়ে যাচ্ছে তা সরকারের জন্য, প্রশাসনের জন্য সুখকর নয়। একই সঙ্গে অবাধ চোরাচালানের মহোৎসব বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সংসদ থেকে শুরু করে রাজপথ-গলিপথ কিংবা পাড়ার চায়ের দোকানের আড্ডায় গত কয়েকদিন সবচেয়ে বড় যে প্রশ্ন কানে এসেছে সেটি হলো জামালউদ্দিনের খুঁটির জোর কোথায়। আমরা সে হিসেব নিতে চাই না। জানতেও চাই না। শুধু চাই প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এই মানুষটিকে বিমানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিন। এজন্য চোরাচালানের মতো ঘটনার তদন্তের প্রয়োজন নেই। মাল্টি বিলিয়ন কোম্পানি বিমানের ক্রমাগত লোকসান গুনতে থাকায় এই সিদ্ধান্তের জন্য যথেষ্ট। আর চোরাচালানের বিষয়টির তদন্ত হোক যথাযথভাবে।
কেন জামালউদ্দিনের চলে যাওয়া জরুরি। সেটিও জানিয়ে রাখা দরকার। ছয় বছরে বিমানমন্ত্রী তিনবার রদবদল হয়েছে। বিমানের পরিচালনা পর্ষদ ও এমডি পদেও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যান পদে জামালউদ্দিনই বহাল আছেন। যার ফলে বিমানে তার একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জামালউদ্দিন সম্পর্কে আরো একটু বলা দরকার, তার বিরুদ্ধে যে কেউ প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি তা নয়। নবম জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। সেখানে তাকে অথর্ব পর্যন্ত বলা হয়েছে। সেটা কেউ পড়েও দেখেনি। এমনকি বিমানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গ্রেপ্তারের পর বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি। মন্ত্রী কথা বলতে চেয়েও তার নাগাল পাননি।
সরকারের শরিক দল জাসদের সংসদ সদস্য মাঈনুদ্দিন খান বাদল সংসদে দাঁড়িয়ে জানালেন নবম জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির দায়িত্বে থাকার সময় তাদের তদন্তে বিমানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পাওয়া অযোগ্যতার অভিযোগের ফিরিস্তি। সংসদীয় কমিটি তার মধ্যে কোনো নেতৃত্ব খুঁজে পায়নি। পেয়েছে স্বজনপ্রীতি, দায়িত্বহীনতার প্রমাণ। আর তাই সরাসরি অথর্ব হিসেবেই সার্টিফিকেট দিয়েছে কমিটি। ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেন তারা। অথচ কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা বা আলোচনাই করা হয়নি নবম সংসদে। ব্যবস্থা নেওয়া তো দিবাস্বপ্ন মাত্র।
২১ নভেম্বর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে সোনা চোরাচালানের সঙ্গে বিমানের চেয়ারম্যানও জড়িত বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেন কাজী ফিরোজ রশীদ। তিনি বিমানের চেয়ারম্যানকে ডেকে কৈফিয়ত তলবের জন্য বিমান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রতি আহ্বান জানান।
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, বিমানের একশ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশে সোনা চোরাচালান হয়। এর পেছনে বিমানের চেয়ারম্যান জড়িত। তার কথিত ধর্মপুত্র পলাশের দাপটে বিমানবন্দর তটস্থ থাকে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি সেলিম বলেন, ‘কথায় বলে, শুঁটকির গুদামে বিড়াল চৌকিদার।’ আমাদের দশা হয়েছে তাই। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে কোটি কোটি টাকার সোনা চোরাচালান হয়। এতদিন ধরা পড়ত চুনোপুঁটি। এবার রাঘববোয়াল ধরা পড়েছে। তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কোন পাইলট কবে কোন ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণ করতেন ক্যাপ্টেন শহীদ। আর ডিজিএম এমদাদ ও ব্যবস্থাপক তোজাম্মেল কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব বণ্টন করতেন। অভিযোগ রয়েছে, চোরাচালান চক্রের পছন্দের কর্মীরা যাতে নির্দিষ্ট ফ্লাইটে দায়িত্ব পান, তা এসব কর্মকর্তা নিশ্চিত করতেন। আর এদের পদে থাকাটা নির্বিঘœ করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা ছিল পলাশের।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ নিজেকে বিমানের ঠিকাদার ও চেয়ারম্যানের ‘ধর্মপুত্র’ পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, তিনি জামালউদ্দিনের ছেলের বন্ধু। অবশ্য তার এই দাবি অস্বীকার করেছেন জামালউদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন তার নিজ জেলা কুমিল্লায় বাড়ি বলে পলাশ বিভিন্ন সময় তার কাছে এসেছে এই পর্যন্তই। তবে গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে তারা পলাশের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি সেখানকার চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করেন।
পাঁচজনকে গ্রেপ্তার ডিএমপির আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম জানান, ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের কেবিন ক্রু মাজহারুল আবছারকে দুই কেজি ৬০০ গ্রাম সোনা, ছয়টি আইপ্যাডসহ গ্রেপ্তার করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে আদালতে তার দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে পলাশ পুরো চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, এই পাঁচজন ছাড়াও সোনা পাচারে জড়িত বা সহায়তাকারী হিসেবে বিমানের আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম এসেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া মাজহারুল আবছার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোনা পাচারে জড়িত হিসেবে আরও ৫৬ জনের কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে ৫১ জন বিমানের ও পাঁচজন বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) কর্মী। স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেন, সোনা পাচারকারী চক্রগুলো সিভিল এভিয়েশন, শুল্ক বিভাগ, বাংলাদেশ বিমানসহ অন্য বিমানসংস্থার একশ্রেণির কর্মীকে পাচারকাজে যুক্ত করেছে।
শুল্কবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২০ মাসে শুল্ক বিভাগ ও শুল্ক গোয়েন্দারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ হাজার ১৮ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে।
ঢাকা বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, গত জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনা উদ্ধারের ঘটনায় ৯৫টি মামলা হযেেছ। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১১৯ জন।
অদক্ষতা আর যাত্রী সেবার নিম্নমানের জন্য বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে বিমানকে। যাত্রী সেবার মান বাড়াতে ২০০৭ সালে কোম্পানিতে রূপান্তরের পরের বছরই মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর কাছ থেকে আটটি সুপরিসর বিমান কেনার চুক্তি করে বিমান। ২০১৭ সালের মধ্যে বহরে যোগ দেবে সোয়া বিলিয়ন ডলারে কেনা এসব বিমান। কর্তাদের দুর্নীতি আর অদক্ষতায় বিমান আকাশে উড়ার বদলে তলিয়ে যাচ্ছে লোকসান আর ঋণের চোরাবালিতে। দ্রুত এ অবস্থা থেকে বিমানকে তুলে আনা দরকার। আর সেজন্য চাই যোগ্য নেতৃত্ব।