• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

পুষ্টিকর সবজি শিম চাষ

Pic-Birganj-18কৃষি ডেস্ক: শিম একটি পুষ্টিকর সবজি। শিম খেতে সুস্বাদু ও আমিষের উত্তম উৎস এবং সবশ্রেণীর লোকের কাছে অত্যন্ত প্রিয় সবজি। গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই শিমের চাষ করা হয়। বসতবাড়ি ছাড়াও মাঠে অন্যান্য ফসলের মতো শিম চাষ করা যায়। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রচুর আগাম শিমের চাষ করে চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। শিমের বীচি ভেজে ডাল রান্না করে বা ছোলার মতো চিবিয়ে খাওয়া যায়।
মাটি : সবরকম মাটিতেই শিম জন্মে। তবে সুনিকাশযুক্ত দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি শিম চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
জাত : বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি শিম-১ ও বারি শিম-২ নামে দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে। জাত দুটি সারা দেশে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত ইপসা শিম-১ ও ইপসা শিম-২ জাত দুটি রবি ও খরিপ মৌসুমে চাষ করা যায়।
বীজ বপনের সময় : আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত শিম বীজ বোনার উপযুক্ত সময়। তবে জ্যৈষ্ঠ মাসেও বারমাসী শিমের বীজ বপন করে উৎপাদিত আগাম ফসল চড়া দামে বিক্রি করে বেশ লাভবান হওয়া যায়।
বীজের পরিমাণ : প্রতি শতকে ৩০ গ্রাম এবং একরে ৩ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।
জমি তৈরি ও বীজ বপন : মাঠে চাষের জন্য প্রথমে জমি চাষ এবং মই দিয়ে সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য পুরো জমিটি কয়েক খ-ে ভাগ করে নিতে হবে। তারপর জমিতে ২ মিটার চওড়া বেড তৈরি করে ২ মিটার দূরত্বে মাদায় বীজ বুনতে হবে। বসতবাড়ির বাগানে ৪৫ সেন্টিমিটার চওড়া ৩০ সেন্টিমিটার গভীর করে মাদা তৈরি করতে হবে।
মাদায় সার প্রয়োগ : প্রতি গর্তের মাটির সঙ্গে গোবর ১০ কেজি, টিএসপি ১০০ গ্রাম, খৈল ২০০ গ্রাম ভালোভাবে মিশিয়ে ৫-৭ দিন পর মাদায় ৪-৫টি বীজ ফাঁক ফাঁক করে বপন করতে হবে। চারা গজালে মাদাপ্রতি ২-১টি সবল চারা রেখে বাকি চারাগুলো তুলে ফেলতে হবে।
পরিচর্যা : গাছ ঠিকমতো বাওয়ার জন্য মাচার ব্যবস্থা করতে হবে। বাঁশের চটি বা নাইলনের রশি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করা যায়। মাঝেমধ্যে মাটি কুপিয়ে বা নিড়িয়ে আগাছা পরিষ্কার ও মাটি আলগা করে দিতে হবে। বর্ষায় যাতে গাছের গোড়ায় পানি না জমে সে জন্য গাছের গোড়া মাটি দিয়ে উঁচু করে দিতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে ১৫ দিন পরপর সেচ দেয়া উচিত। চারা বড় হতে থাকলে ১৫-২০ দিন পরপর ২-৩ কিস্তিতে মাদাপ্রতি ৫০ গ্রাম হারে ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম হারে মিউরেট অব পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
প্রয়োগকৃত সার অবশ্যই মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।
রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন : শিমের প্রধান প্রধান রোগের মধ্যে লিফস্পট, মোজাইক ও অ্যানথ্রাকনোজ উল্লেখযোগ্য। জাবপোকা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা শিম ফসলের বেশি ক্ষতি করে থাকে।
১. লিফ স্পট : পাতায় প্রথমে খুব ছোট ধূসর বাদামি দাগ দেখা যায় এবং পরে দাগগুলো বড় হয় এবং সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। এ রোগ দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি টিল্ট-২৫০ ইসি অথবা ২ গ্রাম ব্যাভিস্টিন মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর ৩-৪ বার পাতায় স্প্রে করতে হবে।
২. মোজাইক : আক্রান্ত গাছের পাতায় হলুদ ও সবুজ রঙের ছোট ছোট দাগ দেখা যায়। হলুদ অংশ ধীরে ধীরে বড় হয়ে সব পাতা হলুদ হয়ে যায়। গাছে এ রোগ দেখা দিলে প্রতিলিটার পানিতে ২ মিলি পারফেকথিয়ন মিশিয়ে স্প্রে করে এর বাহক পোকা সাদামাছি দমন করতে হবে এবং আক্রান্ত গাছ উপড়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৩. অ্যানথ্রাকনোজ : প্রথমে পাতায় হলুদ রঙের দাগ পড়ে পরে বাদামি বা কালো রঙ ধারণ করে এবং আক্রান্ত ফলের গায়ে বাদামি দাগ দেখা যায়। রোগের আক্রমণ বেশি হলে শিম পচে যায়। এ রোগ দমনের জন্য বীজ লাগানোর আগে প্রতি কেজি বীজের সঙ্গে ২ গ্রাম ভিটাভেক্স-২০০ মিশিয়ে শোধন করে নিতে হবে। এছাড়া প্রতিলিটার পানিতে ২ গ্রাম ডায়থেন এম-৪৫ মিশিয়ে ১০-১২ দিন পরপর আক্রান্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।
৪. জাব পোকা : এ পোকা শিমের পাতা, কচিকা-, ফুল, কুঁড়ি, ফলের বোটা ও কচি ফলের রস চুষে খেয়ে শিম ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। এ পোকা দমনের জন্য সুমিথিয়ন-৫০ ইসি বা ম্যালাথিয়ন-৫৭ ইসি ২ মিলি হারে প্রতিলিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত গাছে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।
৫. ফল ছিদ্রকারী পোকা : এ পোকার কীড়া কচি ফলের ভেতর প্রবেশ করে ফলের শাঁস ও বীজ খেয়ে ফলের যথেষ্ট ক্ষতি করে থাকে। গাছে কচিফল দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইপারমেথ্রিন-২০ ইসি (রিপকর্ড/সিমবুশ) জাতীয় কীটনাশক প্রতিলিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে।
ফসল সংগ্রহ : সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস সময়ব্যাপী গাছে শিম ধরে থাকে। শিম ধাপে ধাপে সংগ্রহ করে বিপণন করতে হয়।
ফলন : বারি শিম-১ প্রতি একরে ৮ টন এবং বারি শিম-২ একরে ৫ টন ফলন দিয়ে থাকে। প্রতি গাছ থেকে এক মৌসুমে ১০-১৫ বার শিম সংগ্রহ করা যায়।  লেখক: কৃষিবিদ নিতাই চন্দ্র রায়


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ