সিসি নিউজ: দুর্নীতিবিরোধী অান্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিঅাই) প্রকাশিত চলতি বছরের বৈশ্বিক দুর্নীতি সূচক প্রতিবেদন নিয়ে বাংলাদেশে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন অাওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট এই প্রতিবেদন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
বুধবার টিঅাই প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক বছরে বাংলাদেশে দুর্নীতির মাত্রা অারও বেড়েছে। ২০১৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। আগের বছর এই অবস্থান ছিলো ১৬।
ক্ষমতাসীন অাওয়ামী লীগ জোরালোভাবেই এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। সেইসঙ্গে কিসের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে তারা। টিঅাই দাবি করেছে, বিশ্বব্যাপী পাবলিক সেক্টরে দুর্নীতির পরিমাণ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বুধবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিঅাইবি) ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, বাংলাদেশে দুর্নীতির হার বাড়ার পেছনে দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণে ঘাটতি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্বের উদ্যোগ, দুদকের প্রত্যাশিত স্বকীয়তা ও কার্যকরতার ঘাটতি, দুর্নীতির ঘটনায় জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করার উদ্যোগের ঘাটতি (যেমন–পদ্মা সেতু, রেলওয়েতে নিয়োগ, শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসটিনি, সোনালী ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক, রানা প্লাজা) অন্যতম।
এ বিষয়ে অাওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘এই প্রতিবেদন মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে। কারণ ক্ষমতাসীর দলের সংসদ সদস্যদের গ্রেফতার করে দুদক নিজেদের কার্যক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণ করেছে। দেশের ইতিহাসে এ ঘটনাকে বিরল উল্লেখ্য করে তিনি দাবি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনকে বিতর্কিত করাই ওই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য। তিনি দাবি করেন প্রতিবেদনে বিএনপি জামায়াতের সুরেই সুর মেলানো হয়েছে। এটা সরকার বিরোধীদের আরও উস্কানি দেবে।
তবে এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের মানুষ বহুদিন আগে থেকেই দুর্নীতিতে ভুগছে। কোনও সময় কম কখনও বেশি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এই উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু সংসদের কোনও বৈধতা নেই, তাই সংসদ সদস্যদের কোনও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই। যা দুর্নীতিতে তাদের উৎসাহ দিচ্ছে। অবৈধ সংসদ যতদিন চলবে যতদিন এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকবে দুর্নীতি বাড়তেই থাকবে।
তবে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০০৬ সালের পর (বিএনপি সরকারের বিদায়) থেকে বাংলাদেশের ক্রমশ দুর্নীতি কমছে। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫৮ ও ১৫৬। এ বছরে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৫। গত বছর বাংলাদেশ ছিল ১৩৬তম স্থানে।
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসিহ বলেন, যদি বিএনপি বা জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসে তবে দুর্নীতি হবে না এটা ভাবার কোনও কারণে নেই। তিনি দাবি করেন এ প্রতিবেদনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই তার মনে হয়েছে। ওয়ার্কাস পার্টি বাংলাদেশের পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক জানান, এ প্রতিবেদনে বিস্ময় প্রকাশের কোনও কারণ নেই। তিনি বলেন, দুর্নীতির খুব ছোট্ট অংশ গণমাধ্যমে আসে। অধিকাংশই গণমাধ্যমে আসে না। আমি বিশ্বাস করিনা ২০১২ সালের মধ্যে সরকারকে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে পারবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শরিফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, দুর্নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি। তবে একটি ভালো দিক হচ্ছে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।
কম্যুনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। আমরা আগে থেকেই বলে আসছি দুর্নীতির ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর গণ আান্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।