আমাদের এক দুরসম্পর্কের আত্মীয়ের হলুদে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। অনেক ধুমধাম করে হলুদ সেলিব্রেট হয়েছে। বেশ কিছু আয়োজনের সাথে দর্শক পর্ব ছিল। হটাৎ উপস্থাপক মাইক হাতে নেমে একজন আপুকে স্টেজে ডাকলেন। বললেন আপনি কি ম্যারিড নাকি আনম্যারিড?
তিনি বললেন আমি ম্যারিড।
সত্যি করে বলবেন কিন্তু! বলেন তো বিয়ের আগে আপনার কয়টা প্রেম ছিল।
তিনি বললেন কি যে বলেন ভাই! আমার তো লাভ ম্যারেজ। বিয়ের আগে পরে ওই আমার সব।
উপস্থাপক এবার বললেন- আপা আপনার হাজব্যেণ্ডকে একটু দাঁড়াতে বলেন! তার হাজব্যেণ্ড খুব সুন্দর হাসি মুখে উঠে দাঁড়ালেন। এরপর উপস্থাপক লোকটি বলল- দেখা যাক আপনারা কে কাকে কতটুকু ভাল বাসেন। ১০ মিনিট দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকবেন, কিন্তু চোখের পলক ফেলা যাবে না।
সত্যিই তারা দশ মিনিটে একবারও চোখের পলক ফেললো না, সবাই মুহুর্মুহু হাততালি, এত ভালবাসা।
ঐ মেয়ের যায়গায় যদি আমি হতাম তাহলে এতক্ষণে কয়েক হাজারবার পলক ফেলে দিতাম আর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ত। তার মানে আমি জামাইকে ভাল বাসতে পারব না!
বড় অদ্ভুত এই পৃথিবী। কয়েক মাস যেতে না যেতেই শুনলাম সেই আপুর হাজব্যেণ্ড আরেকটি মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে। অথচ সামাজিক সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে এই মেয়েটির কোন খুঁত নেই। যেমন সৌন্দর্য তেমন মেধা, সব মিলিয়ে অসাধারণ মেয়ে।
আমার এক ফ্রেন্ড বেশ ইমোশনালই বিয়ে করে ফেলেছিল। বিয়ের পর ওর বাসায় দাওয়াত খেতে গেলাম। সে কি হাসিখুশি জীবন, জানু জানু বলে ডাকাডাকি, আহারে। দেখেই কলিজাটা হুহু করে উঠলো। তার ৬মাস পরেই বিচ্ছেদ, মানে ডীভোর্স।
পরিচিত এক আন্টি, পালিয়ে বিয়ে করেছিল। অনেক ভালবাসা ছিল তাদের মধ্যে। বাবু হওয়ার পর আন্টি মটু হয়ে যায়, চোখের নিচে কালি পরে যায়, মাথার চুল পরে যায়। এগুলো নিয়ে আংকেল সারাক্ষণ বিরক্তি প্রকাশ করেন, কারণ তার অফিসে মডেল টাইপের কলিগ ঘুরাঘুরি করে। আন্টি এখন জামাই থেকে দুরে যেতে পারলে বাঁচে।
তিনি কিন্তু ছেলের চেহারা দেখেই প্রেমে পরে গিয়েছিলেন, বেশ স্মার্ট কেতাদুরুস্ত ভদ্রলোক।
আজ আমার একটি কথাই কেবল ঘুরে ফিরে মাথায় আসছে। এমন কাউকে বেছে নাও- যে কিনা দুনিয়ার তাবৎ হুরপরীদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সোজা হেঁটে যাবে তোমার হাতটাকে আপন হাতের মুঠোয় পুরে।
উৎস: ফেসবুক