আফজাল হোসেন ফুলবাড়ী: দেশের একমাত্র এবং বৃহৎ দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনি গত বছর সরকারের সাথে জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম( জিটিসি) এর চুক্তির পর খনি থেকে উত্তোলিত বিভিন্ন সাইজের পাথরের বিশাল মজুদ গড়ে উঠেছে। কিন্তু বিক্রি চলছে মন্থর গতিতে।
জিটিসি মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে উৎপাদন শুরুর প্রায় ৮ মাসের মধ্যে এই খনির বহু আখাংকিত স্বপ্ন তিন শিফট্ চালু করে। প্রতিদিন তিন শিফট থেকে প্রায় ৪ হাজার মে,টন পাথর উত্তোলন করছে। যা মধ্যপাড়া পাথর খনির পুর্বের উৎপাদনের চেয়ে প্রায় ৪ গুন বেশী। এত বেশী পাথর উত্তোলন হলেও আশানুরুপ পাথর বিক্রি হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, খনির উৎপাদন, রক্ষনাবেক্ষন এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদারী প্রতিষ্টান জার্মানিয়া ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) চলতি বছরের অক্টোবর মাসের ২য় সপ্তাহে তিন শিফট্ েপ্রতিদিনি প্রায় ৪ হাজার মে,টন পাথর উৎপাদন করছে। ফলে প্রতিদিন মজুদ বাড়ছে কিন্তু বিক্রি সেই হারে বিক্রি হচ্ছেনা। বর্তমানে খনির ভিতরে ফাকাঁ জায়গাগুলোতে বিপুল পরিমাণে জমা হওয়া পাথর যেন পাহাড়ে পরিণত হয়েছে।বেসরকারী কয়েকটি কোম্পানী এই পাথরের একমাত্র ক্রেতা। প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টন পাথর বিক্রি করা হচ্ছে।
প্রায় ৭ বছর ধরে মধ্যপাড়া পাথর খনি প্রতি বছর দেশের ৭ লাখ মে,টন পাথরের চাহিদা পুরন না করতে পারলে জিটিসি মাত্র ৮ মাসে সেই সফলতর দিকে এহিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপাড়া প্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের মহা-ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) ফজলুর রহমান জানান, প্রতিদিন মধ্যপাড়া খনি থেকে প্রায় ২ হাজার মে,টন পাথর বিক্রি হচ্ছে। বেসরকারী কোম্পানীগুলো এর একমাত্র ক্রেতা। সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্টান যেমন- রেলওয়ে, নদীর বাধঁ নির্মাণ,পানি উন্নয়ন বোর্ড, সেতু,এলজিইডি বা সড়ক ও জনপথ সহ সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্টানের নির্মাণ কাজে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহার বাধ্যতামুলক করলে এই পাথর বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভুমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে খনি ইয়ার্ডে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টন ভিন্ন সাইজের পাথর মজুদ রয়েছে। এছাড়া ডাষ্ট মজুদ রয়েছে দেড় লক্ষাধিক টন। এই ডাস্ট সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার সহ রাস্তার কার্পেটিং কাজে সাশ্রয়ি এবং ব্যবহার উপযোগি।
মধ্যপাড়া প্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএএফ নাজমুল আহসান হায়দার পাথর বিক্রির মন্থর গতি স্বীকার করে জানান,এই বিপুল পরিমাণ পাথর মজুদের সঙ্গে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৬শ মে,টন পাথর। পাথর বিক্রি না বাড়লে আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে স্থানাভাবে পাথর উত্তোলন ব্যাহত গতে পারে।
খনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজে পাথরের উৎস ঘাটতি ছিল। নির্মান কাজের জন্য যে স্বল্প পরিমানের পাথর আসত তা দেশের পার্বত্য চট্রগ্রামের পাহাড়ী এলাকা, সিলেট, শেরপুর, পঞ্চগড় এবং লালমনিহাটের নদীর জলপ্রবাহ থেকে। দেশে পাথরের চাহিদার একটি বড় অংশ মেটানো হয় ভারত থেকে আমদানী করা পাথর দিয়ে। ওই সব পাখর মধ্যপাড়ার পাথরের চেয়ে নিম্নমানের। মধ্যপাড়ার উন্নত মানের পাথর দিয়ে দেশের নির্মাণ কাজের পাশাপাশি এই পাথর দিয়ে গড়ে উঠতে পারে উন্নত মানের টাইলসের শিল্প কলকারখানা ।
অপরদিকে সরকার মধ্যপাড়ার উত্তোলিত পাথর সরকারী প্রতিষ্টান ও বেসরকারী প্রতিষ্টানের প্রধানদেরকে গুনগতমাণ ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে অবগত করাতে পারলে বাধ্যতামুলকভাবে এই পাথর বিক্রির ব্যবস্থা করলে এই পাথর বিক্রি করার পথ উন্মুক্ত হবে।