হাসান মাহমুদ, লালমনিরহাট: দিনমজুর রশিদুল হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছে না। জীর্ণশীর্ণ কুটিরে বসবাস করে অর্থনীতি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে স্বপ্ন দেখছে ব্যাংকার হয়ে দেশের সেবা করার। কিন্তু জীবনের ফুল ফুটবে কিভাবে ওই ভাবনা তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
রশিদুল ইসলাম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের মধ্য ধুবনী গ্রামের দিনমজুর রহিম উদ্দিনের পূত্র।
রশিদুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সময় সে স্কুল না গিয়ে বাবার সাথে দিনমজুরের কাজ করেন। তার পরও এসএসসিতে ৪.৯৪ ও এইচএসসিতে ৪.৫০ পেয়েছে। ফলে দিনমজুরের ঘরে জন্ম হয়েও উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দেখতে থাকে। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধে অংশ নেয়। অর্থনীতি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে সুযোগও জুটে যায় তার ভাগ্যে। কিন্তু ভর্তি হওয়ার টাকা নেই রশিদুলের পকেটে। অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ব্যাংকার হয়ে দেশ সেবার যে স্বপ্ন দেখছে মাত্র ১১ হাজার টাকার জন্য সেই স্বপ্ন মুকুলেই ঝড়ে যাচ্ছে রশিদুলের। আগামী ৪ জানুয়ারীর মধ্যে টাকা জোগাড় করতে না পারলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া হবে না রশিদুলের।
রশিদুলের বাবা আব্দুর রহিম জানান, বাপ দাদার অনেক জমিজমা ছিল কিন্তু তিস্তা নদীতে সব বিলিন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে দিন মজুরের কাজ করে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। ৩ ছেলে মেয়েই লেখাপড়ায় ভাল কিন্তু তাদের লেখাপড়া করানোর আর্থিক সাধ্য নেই আমার। রশিদুলকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে গেলে যে টাকার প্রয়োজন তা আমার পক্ষে জোগার করা সম্ভব না।
হাতীবান্ধা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ইউনুস আলী জানান, রশিদুল বেশ মেধাবী। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটেই তাকে তার স্বপ্ন পূরনে প্রতিনিয়ত বাঁধা দিচ্ছে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা পেলে রশিদুল দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে পারবে।