হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা: নীলফামারী জেলা জলঢাকা উপজেলার একটি ঐতিহাসিক স্থান কালিগঞ্জ বদ্ধভুমি। উপজেলা সদর হতে ৮ কিলোমিটার দুরে ডিমলা রোডর কালিগঞ্জ বাজারের মেইন সড়কের পার্শ্বে উত্তর- পশ্চিমে স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু পরিবারের বিভিন্ন বয়সী প্রায় ৩শ জনের প্রাণ কেরে নেয় পাক সেনারা। সেই বদ্ধভুমিতে তাদের স্বরনে স্মৃতি স্তভ তৈরি করা হয়।যা আজো অজন্ত আর অবহেলায় পওে আছে। প্রতিবছর বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনে অনেক কথাই বলেন শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা ব্যাক্তিরা।চলে গেলে আর কিছুই হয় না। বদ্ধভূমির স্মৃতি স্তভের উপর উল্লেক্ষ করা হয় ৭৮জনের নাম।
সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শহীদ হেমন্ত শীলের পুত্র কমলাকান্ত শীল এ প্রতিবেদককে জানান, ‘সেদিন ছিল ২৭ এপ্রিল ৭১সাল । চারদিকে বাজছে যুদ্ধের দামামা। আমরা পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন বালাগ্রাম হতে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ভারতে সরনার্থী হয়ে যাওয়ার পথে কালিগঞ্জে জড়ো হই। কিন্তু সেখানে আমাদের বাধা হয়ে দাড়ায় পাশ্ববর্তী ডোমার থানা হতে ৭টি গাড়ীতে আসা পাক খান সেনারা । তারা নেমেই ছেলে বুড়ো, শিশু মহিলাদের আলাদা করে। তারপর বুড়ো ও যুবকদের একসাথে সারিবদ্ধ করে দাড় করায় ও গুলি চালিয়ে হত্যা করে।সে সময় আমি শিশুদের দলে থাকায় দুর থেকে দেখেছি সে দৃশ্য ও আমার পিতার মৃত্যুকালীন ছটফটানী। পরে মানুষের সাথে ভারতে চলে যাই। নয় মাস পর দেশ স্বাধীন হলে ফিরে আসি এবং দেখি আমাদের ভিটেমাটি সব জাল দলিল ও দখল করে মানুষ বসবাস করছে’।
সেই সময়ে যুবকদের দল হতে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া শহীদ অশ্বিনী অধিকারীর পুত্র অমর অধিকারী বলেন সেই দিন কালীগ্েঞ্জর এই যায়গায় গুলি হবার সাথেই আমি জ্ঞান হারাই। জ্ঞ্যান ফিরে এলে দেখি আমার সারা গায়ে হালকা মাটিচাপা। প্রচন্ড পানি পিপাসা পেয়েছিল। তারপর পা নাড়তে গিয়ে দেখি নড়েনা। আমার গোঙানীর শব্দ শুনে এলাকার লোকজন এসে আমাকে মাটির নিচ হতে উদ্ধার করলে দেখতে পাই পায়ে গুলি লেগেছে। সেই গুলি বের করলে ভালো হই। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সমবেদনা স্বরূপ ১৮ডিসেম্বর ৭২ইং সালের একটি চিঠি মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর ত্রান ও কল্যাণ তহবিল হতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাহায্যার্থে মহকুমা প্রশাসকের নিকট হতে এক বান্ডিল টিন ও ৫শ থেকে ২ হাজার টাকা করে চেক পাই। এই ছিল আমাদের কালি গঞ্জে নারকীয় হত্যাকান্ডে শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি’। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত বদ্ধভুমির স্থানটি অযন্ত ও অবহেলায় পওে থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই।
তৎকালীন চিফ হুইফ আব্দুর রউফ বধ্যভূমি হিসাবে কালিগঞ্জকে চিহ্নিত করে নাম ফলক উন্মোচন করেন। তারপর মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলী দিয়েই অনেকেই দায় শেষ করেন। পরতে থাকে নিরবে সজন হারানো অনেকের অশ্র“। বিষয়টি গভীর ভাবে অনুভাব করে গত ২৬ মার্চ/১৪ সদ্য জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান হাবিব ঘোষনা দেন, ‘এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মুরাল তৈরী করা হবে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন এই কালীগ্েঞ্জর মাঠিতে যারা প্রাণ দিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের সাথে বঙ্গবন্ধু থাকবেন। যেহেতু ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে বঙ্গবন্ধুর কিছুটা হলেও সমবেদনার স্মৃতি বইছে। আমি চাই এ স্মৃতি হাজার বছর বেচেঁ থাকবে’।