সিসি নিউজ: সরকারের মন্ত্রীরা যতই জঙ্গিবাদ দমনে নিজেদের সাফল্যগাঁথা প্রচার করুন না কেন, রাজধানীতে প্রকাশ্যে বিলি হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল হিজবুত তাহরিরের লিফলেট। সোমবার ঢাকার শুক্রাবাদ মসজিদের সামনে মাগরিবের নামাজের পর তিন তরুণকে নামাজিদের মধ্যে এই দলের প্রচারপত্র বিলি করতে দেখা যায়। যদিও এই দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত, তারপরও লিফলেট গ্রহণকারীদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি। উত্তরা মসজিদের সামনে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে এই দলের লিফলেট বিলি করার তথ্য পাওয়া গেছে।
শুক্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, “এদের লিফলেট বিলি করা এই এলাকায় নতুন কিছু না। দুই চার দিন পরপর এরা এ সমস্ত লিফলেট নিয়ে হাজির হয়। মসজিদের দিকে চোখ রাখলে এদের প্রায়ই দেখতে পাবেন।”
প্রচারপত্রগুলোতে সেনাবাহিনী ও জনগণের প্রতি শান্তিপূর্ণভাবে ইসলামি শরীয়া-ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহবান জানানো হয়।
সংগ্রহ করা বিলিপত্রে কালো কাগজে বড় সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে, “স্বৈরশাসক হাসিনা গুলি আর বোমার জোরে জনগণকে তার সামনে নত হতে বাধ্য করছেন। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমরা সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, হাসিনাকে অপসারণ করুন, হিজবুত তাহরিরের হাতে ক্ষমতা তুলে দিন, আমরা দেশে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবো।”
দলটির কর্মীরা প্রচারণা চালানোর সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিষয়ে বলে, মুসলিমদের ভাগ্য এত খারাপ নয় যে তাদের মতো শাসকের অধীনে থাকতে হবে। তারা আরও বলে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সকল বিষয়ে বৈদেশিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
প্রচারপত্রের শেষে হিজবুত তাহরিরের ফেসবুক পেজের লিংক, ই-মেইল ঠিকানা ও দলটির মিডিয়া কার্যালয়ে যোগাযোগ করার সেলফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে।
ইসলামপন্থী আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে ২০০০ সালে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের অক্টোবরে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের পরিচালক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হিজবুত তাহরিরের সব রকম কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হলেও সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদের সামনে তাদের কিছু কিছু তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি জানান, এরা এক জায়গায় বেশিক্ষণ থাকে না বলে এদের আটক করা মুশকিল। তিনি আরও বলেন, “আমরা আগেও এই দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”