সিসি ডেস্ক: পিছিয়ে যাচ্ছে পে-কমিশন রিপোর্ট দাখিল। আগামী রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এই প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এ সময় চিকিৎসার জন্য অর্থমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে থাকবেন। ফলে এ দিন পে-কমিশনের প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না। রিপোর্ট দাখিলের পরিবর্তিত সময় হিসেবে ১৭ ডিসেম্বর বুধবার বেছে নেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে এ দিনই পে-কমিশনের রিপোর্ট পেশ করা হবে বলে কমিশন ও অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সরকার গঠিত পে অ্যান্ড সার্ভিস কমিশনের সময়সীমা ১৪ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে এই কমিশনের মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ওদিকে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। সূত্র জানায়, প্রায় সাড়ে ১১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়ানোর জন্য মূলত তিন ধরনের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে কমিশন। এই তিন প্রস্তাবের একেকটিতে সর্বোচ্চ বেতন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে এক লাখ, ৮০ হাজার ও ৭০ হাজার টাকা। আর প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বেতন দেয়ার প্রস্তাব থাকছে ১০ হাজার টাকা। পে-কমিশন বর্তমান গ্রেড বা ধাপও কমিয়ে আনার প্রস্তাব করতে যাচ্ছে। রিপোর্টে বর্তমানে ২০ স্কেলের পরিবর্তে ১৬টি স্কেল করার কথা বলা হয়েছে। সর্বোচ্চ অর্থাৎ প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের বেতন ধরা হয়েছে। এদের বেতন এক লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হচ্ছে। সিনিয়র সচিবদের জন্য ৯০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হচ্ছে। আর সচিবদের জন্য ৮০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হচ্ছে। গ্রেড-২ বা দ্বিতীয় ধাপে সর্বোচ্চ বেতনের সুপারিশ করা হচ্ছে ৭০ হাজার টাকা। সব ক্ষেত্রেই সর্বনিম্ন বেতন করার প্রস্তাব থাকছে ১০ হাজার টাকা। ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পে-কমিশনের প্রতিবেদনে বিদ্যমান বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত, গাড়ি, মোবাইল ফোন, আপ্যায়ন, উৎসব, শ্রান্তি, বিনোদনসহ সব ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সময় উপযোগী করার প্রস্তাব করার হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও বীমা সুবিধার সুপারিশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া থাকছে বিকল্প প্রস্তাব। চাকরিজীবীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকের নামে পাঁচ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্যকার্ড ইস্যু করার কথা থাকতে পারে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে এককালীন চিকিৎসা খরচ দেয়ার প্রস্তাবও করা হচ্ছে। বেতন বা স্বাস্থ্যভাতা থেকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট হারে টাকা কেটে রাখার কথা বলা হচ্ছে সুপারিশে। এর বিনিময়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসাব্যয় সুবিধা দেয়ার সুপারিশ করবে কমিশন। তবে কেউ মারা গেলে অথবা দুর্ঘটনায় শারীরিকভাবে অম হয়ে পড়লে আলাদাভাবে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে, সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসিক সঙ্কট মোকাবেলায় সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। নতুন বেতন স্কেলে বাড়ি নির্মাণ বা কেনা বাবদ ঋণের পরিমাণ ৪০ মাসের মূল বেতনের সমান করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এ ঋণ হবে সুদযুক্ত। সুদের হার হতে পারে ৫ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি বাড়বে : এ দিকে আগামীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার হেয়ার রোডস্থ সরকারি বাসভবনে বিশ্বব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক সুভাষ সি গার্গের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে। তবে এখন যেহেতু মূল্যস্ফীতি কম তাই পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের এটাই উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, অন্য দিকে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য সরকারের কিছু করণীয় নেই। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বেতন সমন্বয়ের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি জানান, পে-কমিশনের চেয়ারম্যান বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর রিপোর্ট জমা দেবেন। বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাজেট সহায়তা ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করতে না পেরে বিশ্বব্যাংক ব্যথিত। এ বিষয়ে তারা চুপ রয়েছে, আর আমরাও কথা বলি না। তিনি জানান, ‘আগামী চার বছরের মধ্যেই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে। আমার আশঙ্কা ছিল, বড় কোনো প্রতিষ্ঠান এ নির্মাণকাজে যুক্ত হবে না, কিন্তু সেই সঙ্কট এখন কেটে গেছে। শিগগিরই পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবো।