খেলাধুলা ডেস্ক: বাড়ি পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া থানায়। জাতীয় মহিলা হ্যান্ডবল দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় তিনি। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আইএইচএফ চ্যালেঞ্জ ট্রফি জয়ে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮টি গোল করেন তিনি। আর পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুন্য প্রদর্শ করার ফলে তাকে ভূসিত করা ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টে। বলা হচ্ছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা হ্যান্ডবল দলের অধিনায়ক তৃপ্তি বেগমের গল্প। পাকিস্তানে যাবার আগে এক মাস ১৬ দিন অনুশীলন করার সময় পান তৃপ্তিরা। কিন্তু তাই বলে হতাশ করেনি তারা। প্রথমবারের মতো কোন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হল মেয়েরা। আইএইচএফ ট্রফিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েই দেশে ফিরেছে দলটি। বাবা পল্লী চিকিৎসক ও মা গৃহিণী। তিন বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে তৃপ্তি বোনদের মধ্যে সবার ছোট। সেই ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী থাকাকালীন সময়ে স্কুলের শারীরিক শিক্ষক আবুল হোসেনের পরামর্শে হ্যান্ডবল জগৎতে পা রাখেন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে সার্ভিসেস সংস্থা বিজেএমসির হয়ে খেলা। কিন্তু অর্থনৈতিক পিছুটান ছিলই। সেটা দূর হয়ে যায় যখন ২০১২ সালে সার্ভিসেস সংস্থা বিজেএমসিতে চাকরি স্থায়ী হয়। আর সর্বশেষ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আইএইচএফ হ্যান্ডবল ট্রফিতে সেরা খেলোয়াড় হয়ে চমকে দিলেন সবাইকে। এরপর শুধুই তৃপ্তির আত্বতৃপ্তির গল্প …
পাকিস্তানে কি কোন সমস্যা হয়েছিল?
তৃপ্তি : পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ি খাওয়া-দাওয়া নিয়ে। ওখানকার খাবার মুখে দেয়া যায় না। বলতে গেলে ফলমূল খেয়েই থাকতে হয়েছে! তবে আবহাওয়া বেশ ভালো ছিল।
টুর্নামেন্টে কোন দলকে সমীহ করে খেলেছেন?
তৃপ্তি : নেপাল,পাকিস্তান, ইয়েমেনের প্লেয়াররা ফিজিক্যালি আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। কিন্তু স্কিলে আবার আমরা এগিয়ে ওদের চেয়ে। পার্থক্যটা এখানেই। সেমিতে নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচটা ছিল সবচেয়ে কঠিন।
সিনিয়র পর্যায়ে খেলার ইচ্ছে আছে?
তৃপ্তি : হাঁ, অবশ্যই আছে। আমার লক্ষ্য থাকবে এখনকার (অনূর্ধ্ব-১৯ দল) ফর্মটা যেন সিনিয়র লেভেলে গিয়ে ঠিক একইভাবে ধরে রাখতে পারি। জাতীয় পর্যায়ে আপনার সাফল্য সম্পর্কে কিছু বলবেন?
তৃপ্তি : জাতীয় পর্যায়ে বিজেএমসির হয়ে ২০১২, ১৩ ও ১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।
কোন পরাজয় আপনাকে এখনও পীড়া দেয়?
তৃপ্তি : ২০১৩ বাংলাদেশ গেমসে রানার্সআপ হয়েছিলাম। সেবার আসনারের কাছে ফাইনালে পরাজিত হই।
আপনার আদর্শ কে?
তৃপ্তি : বিজেএমসির সতীর্থ ডালিয়া আক্তারকে নিজের আদর্শ খেলোয়াড় মনে করি। আপনারা কি ধরণের সুযোগ-সুবিধা পেলে আরো ভালো করবেন বলে মনে করেন?
তৃপ্তি : জাতীয় দলের ক্যাম্প যেন দীর্ঘমেয়াদী হয়, বিদেশী কোচ যেন আনা হয় এবং বেশি করে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ও বিদেশে খেলতে যাবার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। তাহলেই ভালো করবো আমরা।
হ্যান্ডবল নিয়ে ভবিষ্যত কি স্বপ্ন দেখেন?
তৃপ্তি : স্বপ্ন হচ্ছে হ্যান্ডবল খেলেই ক্যারিয়ার শেষ করা। এবং হ্যান্ডবলের কোচ হিসেবে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করা।
উৎস: করতোয়া