
রংপুর: উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের(বেরোবি) আন্দোলনরত শিক্ষক সমিতি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফ্যাক্সযোগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এ স্মারকলিপিটি পাঠানো হয়েছে বলে শিক্ষক সমিতি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে উপাচার্য একে এম নূর-উন-নবী’র অপসারণের দাবিতে গণঅনশন চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়।
জানা গেছে, স্মারকলিপিতে মোট দশটি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে উপাচার্যের অযোগ্যতা, বিভিন্ন অনিয়ম, একগুয়েমি ও স্বেচ্ছাচারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষক সমিতি আরো অভিাযোগ করেন, বিগত ১৯ মাসে ৩৮০ কর্মদিবসের মধ্যে ২৬০ কর্মদিবস উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন না।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, দাফতরিক কাজের অজুহাতে উপাচার্য বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে দিনের পর দিন ঢাকা অবস্থান করেছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।
উপাচার্য মহোদয়ের দুর্বিনত দুর্নীতি পরায়ণতার কারণে মেধা নয় বরং সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি চরমভাবে অবলুপ্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, রোকেয়া দিবস, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিবস, জাতীয় শোক দিবস, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুক্তবুদ্ধি চর্চা রোধ করা হয়েছে।
শিক্ষাছুটি মঞ্জুরের ব্যবস্থা গ্রহণে সিন্ডিকেটের সুপারিশ অবজ্ঞা করে বিধিভঙ্গের মাধ্যমে শিক্ষাছুটি প্রাপ্য শিক্ষকদের মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে হয়রানি করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসন ধ্বংস করা হয়েছে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ১৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিম্মি করে ১৯ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে তাদের পরিবারবর্গকে আর্থসামাজিকভাবে পর্যুদস্ত করে বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে নস্যাৎ করা হয়েছে।
বেরোবিতে দেড় মাস ধরে তাদের এ দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন চলে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোন সমাধান না হওয়ায় অবশেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিলেন আন্দোলনকারীরা। উপাচার্যকে আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিবে না বলেও তারা হুশিয়ারি দেন।