সিসি নিউজ: কাজীর গরু কেতাবেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সৈয়দপুরের মাধ্যমিক পর্যায়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান। ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ এ সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ অবব্যহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রশিক্ষিত জনবল থাকলেও নিয়মিত হচ্ছে না ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠ দান। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের।
সূত্রমতে, পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি প্রায়োগিক শিক্ষার প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহী করে তুলতে তথ্য-প্রযুক্তি (আইটি) শিক্ষায় পারদর্শী করে তুলতে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান প্রকল্প হাতে নেয়। আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা দেয়াই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি করে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্পিকার এবং ইন্টারনেট সংযোগের জন্য সীমকার্ডসহ মডেম দেয়া হয়। ডিজিটাল কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে ওই সব প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও আগ্রহী শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও এ প্রকল্পে সফলতা আসছে না। এর কারণ হিসেবে শিক্ষকদের অভিযোগ সরকারিভাবে আইটি সামগ্রী দেয়া হলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তারা জানান, বেশিরভাগ কম্পিউটারের ব্যাটারি ডাউন, প্রসেসর নিম্নমানের, হার্ডডিস্ক ও মাদারবোর্ড দূর্বল, র্যামের গতিও কম। নানা সমস্যার কারণে এগুলো চালানো যাচ্ছে না। আবার অনেক স্কুলে আইটি সামগ্রী থাকলেও বিদ্যুৎ থাকে না। কখনও বিদ্যুৎ থাকলেও লো-ভোল্টেজের কারণে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালানো সম্ভব হয় না।
সৈয়দপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৫২টি। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম গড়ে না উঠলেও ক্লাস নেয়ার মতো সরঞ্জাম রয়েছে।
সূত্রটির মতে ইতিমধ্যে ডিজিটাল কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে ১৪জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষকও রয়েছেন। অপর একটি সূত্রমতে, তদারকি না থাকায় বেশিরভাগ স্কুলেই ঠিকমতো ব্যবহার করা হচ্ছে না ডিজিটাল ক্লাসরুম কিংবা শিক্ষা প্রদান। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য দেয়া ল্যাপটপ ও মডেম ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন প্রধান শিক্ষক বা গর্ভনিং বডির সদস্যরা। বাকি সরঞ্জামও প্যাকেটবন্দি হয়ে পড়ে আছে। অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানেন না যে তাদের স্কুলে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম। এছাড়াও প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষকরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাহিনা আক্তার সিসি নিউজকে জানান, নায়েম থেকে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষাদান বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারের মধ্যে একটি কম্পিউটার নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান সিসি নিউজকে জানান, বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতিতে আইটি শিক্ষা অবশ্যই দরকার। এ পদ্ধতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ শিক্ষা অর্জন অসম্ভব। তিনি জানান, অনেক স্কুলের কম্পিউটার ক্রটিপূর্ণ। এগুলোকে সচল করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারী বরাদ্দ পাচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে দু’একবার মেরামত করা হলেও বেশিরভাগ সময় অকেজো অবস্থায় ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল আলম সিসি নিউজকে বলেন, আইটি শিক্ষা প্রচলনের সরকারি উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ শিক্ষা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। শ্রেণীকক্ষে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার ও ডিজিটাল কনটেন্ট দ্বারা শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করছে। তাই নিজস্ব উদ্যোগে হলেও প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতিতে পাঠদান প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাকেরিনা বেগম সিসি নিউজকে জানান, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কার্যকারিতা দেখতে চলতি মাসে তিনি ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। এরমধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানে এর কার্যকরিতা পেয়েছেন। তিনি চাপড়া কাশিরাম আলিম মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করে বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম এখনও প্যাকেটবন্দি রয়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ক্লাস রুটিনে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের উল্লেখ নেই। তিনি জানান, আগামী বছরে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও পাঠদান নিশ্চিত করতে সব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এর ব্যতিক্রম ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।