• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

জয়পুরহাটে ট্রেন দূর্ঘটনা: নিরাপত্তা বাহিনীর ৩ সদস্য সাসপেন্ড

Borkastoরুকুনুজ্জামান বাবুল, পার্বতীপুর: খুলনা থেকে পার্বতীপুর রেলওয়ে হেড ডিপোগামী তেলবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পার্বতীপুর এরিয়া অপারেটিং ম্যানেজার শাহ আলম তালুকদারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত টিম শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করেছে। কমিটির সদস্যরা হলেন, মিজানুর রহমান এএমই ক্যারেজ , কমল কৃষ্ণ গোষ্মামী এএমই লোকো, সিদ্দীকুর রহমান এইএন পার্বতীপুর , আশরাফুল ইসলাম এসিসটেন্ড কমান্ডার পাকশী ও সহকারী সার্জন মারুফুল ইসলাম। তদন্ত কমিটি দূর্ঘটনার জন্য ট্রেনে উঠা চোরাকারবারীদের কারনে দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে। এদিকে ঘটনার পরপরেই তেলবাহী ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর ৩ সদস্য আতিকুর রহমান, আজগর আলী ও আলাউদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা। তবে ট্রেনের গার্ড ও ড্রাইভার মুখ খুলছেন না। অপরদিকে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে আরো একটি টিম তদন্ত শুরু করেছে।
জানাযায়, বৃহস্পতিবার খুলনা থেকে ছেড়ে আসা তেলবাহী বিটিও কেআইপি ১৩ আপ ট্রেনটি ২৬টি ট্যাক লরি নিয়ে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পথি মধ্যে ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশনে দাঁড়ালে ২ শতাধিক চোরাকারবারী ও যাত্রী ওই ট্রেনের বিভিন্ন ফাঁক ফোকরে উঠে পড়ে। ট্রেনটি জয়পুরহাট স্টেশনে না থেমে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাঁচ বিবি শিমুলতলীতে এসে পৌছালে ট্রেনের পিছন দিকের গার্ড ব্রেক সহ ১৩টি তেলবাহ লরি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় বিকট শব্দে ট্রেন থেকে যাত্রীরা ছিটকে পড়লে ট্রেনে কাটা পড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়।
ট্রেনের ড্রাইভার মোবাইল ফোন রিসিভ না করে বন্ধ করে দিলে ট্রেনের সহকারী ড্রাইভার উজ্জল হোসেন জানান, ট্রেনটি থ্রুপাস (মধ্যবর্তী স্টেশনে যাত্রা বিরতি নেই) হওয়ায় চোরা কারবারীরা দুই লরি গুলোর মধ্যবর্তী স্থানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে ট্রেনের ঝাকুনিতে ছিটকে পড়ে যাত্রীরা দূর্ঘটনা কবলিত হয়। ট্রেনের গার্ড আনোয়ার হোসেন-২ প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ায় কথা বলতে রাজি হয়নি।
তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আজগর আলী বলেন, সান্তাহার স্টেশনে যাত্রীরা উঠতে চেষ্টা করলে আমরা বাধা দেই। পরে আমরা গার্ড ব্রেকে ফিরে আসলে শতাধিক চোরাকারবারী ও যাত্রী চলন্ত তেলবাহী ট্রেনের বিভিন্ন ফাঁক ফোকরে উঠে পড়ে। তাদের কারনে ট্রেনটির ১৩টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে ট্রেনের যত্রীরা ছিটকে পড়ে ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে। পরে দুই ট্রেনের পুন: সংযোগ দিয়ে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেনটি আবার পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
তদন্ত কমিটির প্রধান পার্র্বতীপুর জংশন স্টেশনের এরিয়া অপারেটিং ম্যানেজার শাহ আলম তালুকদার বলেন, প্রাথমিক ভাবে ট্রেনে অবৈধ ভাবে উঠা চোরাকারবারীদের দায়ী বলে মনে হচ্ছে। আগামী রোববারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
দূঘটনায় যারা মারা যান তাদের পরিচয় : চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবন নগরের জুয়েল হোসেন, পিতা ফজলু,  জয়পুরহাট খঞ্জন পুরের আজাহার আলী, দিনাজপুরের হিলি হাকিমপুরে হৃদয় হোসেন, পিতা মোজাফ্ফর হোসেন ও মিজান পিতা খোদা মোহাম্মদ, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার আইমারী গ্রামের আব্দুল খালেক, পিতা ইসহাক আলী। এ ছাড়াও কমপক্ষে ৩০জন গুরুতর আহত  ও ১৫ জনের হাতপা কাটা পড়ে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ