• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নীলফামারীতে নুরের গাড়ী বহরে হামলার এক বছর পূর্তি আজ

Nilphamari Photo-02সিসি নিউজ: সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরের গাড়ী বহরে হামলার এক বছর পূর্তি আজ। সেদিনের সেই হামলার ঘটনায় চার আওয়ামী লীগ কর্মীসহ নিহত হন পাঁচ জন। ঘটনার এক বছর পেড়িয়ে গেলেও মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ নিহতদের পরিবারের। তবে পুলিশ বলছে মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। বাকী শুধু চার্জশিট দাখিল।
জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হবার পর রামগঞ্জ, পলাশবাড়ি ও লক্ষীচাপসহ জেলাজুড়ে তান্ডব চালায় তৎকালীণ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর এসব ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকা পরিদর্শণে গিয়েছিলেন সং®কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর এমপি। পরিদর্শণ শেষে লক্ষীচাপ থেকে নুরের গাড়ীবহর রামগঞ্জে পৌছালে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা সেই গাড়ীবহরে হামলা চালান। এসময় নুরের সহায়তায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা এগিয়ে এলে সংঘর্ষ বাধে। সেই সংঘর্ষে ইউনিয়ন কৃষকলীগ সভাপতি খোরশেদ আলম, যুবলীগ নেতা ফরহাদ হক শাহ ও তার ছোট ভাই মুরাদ হক শাহ, আওয়ামী লীগ নেতা লিটন হোসেন লেবু ও পথচারী আবু বক্কর সিদ্দিক মারা যান। সেদিনের সেই নৃশংসতার ঘটনা এখনো সাক্ষাৎ আতঙ্ক পরিবারের কাছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার এতদিন পেড়িয়ে গেলেও এখনো সে ঘটনার বিচার হয়নি। বরং আসামী এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
গত শনিবার সরেজমিনে সেদিনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ফরহাদ ও মুরাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মা মেরিনা বেগম নিহত দুই ছেলের ছবি নিয়ে বিলাপ করছেন। আদরের দুই ছেলেকে হারানোর এক বছর হলেও সে ঘটনা এক মুহুর্তের জন্য ভূলতে পারছেননা তিনি। ছেলেদের ছবি বুকে নিয়ে ডুকরে কাঁদছেন তিনি। এসময় নিহত ফরহাদ-মুরাদের মা মেরিনা বেগম বলেন, “দেশে একটি মুরগী মরলেও বিচার হয়, অথচ আমার দুই ছেলে হত্যার বিচার এখনো পেলামনা। আসামীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি তো আর আমার ছেলেদের ফিরে পাবনা। বেঁচে থাকতে দুই ছেলে হত্যার বিচার দেখতে পেলে কিছুটা হলেও শান্তি পাব”।
ফরহাদ-মুরাদের বাবা ফারুক হক শাহ বলেন, “ ছেলেকে মেরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তার লাশ আটক করে রেখেছিলো। সরকারের কাছে আমার দাবি আমি যেন আমার ছেলে হত্যার সুষ্ট বিচার চাই”।
একই দিন বিকেলে সেদিনের ঘটনায় নিহত আরেক আওয়ামী লীগ কর্মী লিটন হোসেনের বাড়িতে গিয়েও দেখা যায় প্রায় একই রকম দৃশ্য। নিহত লিটনের ছবি বুকে নিয়ে মা মরিয়ম নেছা ও বড় বোন মিনু বেগম। মিনু বেগম বলেন, “আমাদের সংসারে কোন অভাব নাই, আছে শুধু ভাই লিটনের অভাব। শুধু আওয়ামী লীগের রাজণীতি করার অপরাধে লেবুকে নৃসংসভাবে হত্যা করা হয়েছে”।
লেবুর মা মরিয়ম নেছা বলেন, “ ছেলে মারা যাবার পর প্রধানমন্ত্রী মোক দশ লাখ টাকা দিয়েছেন, এই টাকা দিয়া মুই এ্যালা কি করিম? প্রধানমন্ত্রী কইছে (বলেছে), এ হত্যার বিচার হবে। মুই দেখিবার চাও প্রধানমন্ত্রী ছেলে হত্যার কি বিচার করেন”।
এদিকে সেদিনের সেই সংঘর্ষের ঘটনায় ১০০ জনের নাম উলে¬খ করে অজ্ঞাত আরো তিন হাজার জনকে আসামী করে হত্যা ও হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর গত ১৮ জানুয়ারী মামলার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামী লক্ষীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানীর মৃতদেহ পলাশবাড়ি থেকে, ২০ জানুয়ারী টুপামারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম আতিকের মৃতদেহ সৈয়দপুর থেকে এবং ২ ফেব্র“য়ারী শিবির কর্মী মহিদুল ইসলামের মৃতদেহ বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে মামলার আসামীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মামলার এক এজাহারভূক্ত আসামী শিবির কর্মী রনী হোসেনসহ ৬০ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামী প্রেফতারে এখনো মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হচ্ছে”।
এদিকে মামলার বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান পাশা জানান, মামলার তদন্ত কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শীঘ্রই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মমতাজুল হক বলেন, “নৃসংস এই হত্যাকান্ডে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা ঘটলে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ বা যুবলীগের নেতাকর্মীকে চুপ করে বসে থাকবেনা। তার সমুচিৎ জবাব দেয়া হবে।
এদিকে নিহতের ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ পৃথক পৃথক দোয়া মাহফিল ছাড়াও টুপামারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ্যে আজ রামগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে স্মরণসভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ