সিসি ডেস্ক: নায়িকা হ্যাপি জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়েরের দুই দিন পর বললেন, আমি থানায় প্রতারণার মামলা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাকে এ সম্পর্কে বুঝিয়ে ধর্ষণের মামলা দায়ের করিয়েছে।
তবে মিরপুর থানা পুলিশ বলছে, ‘হ্যাপির অভিযোগ অনুযায়ী প্রতারণার মামলার কোনো সুযোগ নেই। তাই সংশ্লিষ্ট ধারায় নারী নির্যাতনের মামলা নেওয়া হয়েছে।’ সোমবার নায়িকা হ্যাপি ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বললে তারা এসব বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
হ্যাপি বলেন,‘আমি যখন বুঝতে পারলাম রুবেল আমাকে এড়িয়ে চলছে, সে আমাকে পাত্তা দিচ্ছে না। অথচ অন্য মেয়ের সঙ্গে প্রেম করার খবর আমার কানে আসছে, তখন আমি তার কাছে জানতে চাই।’
হ্যাপি আরো বলেন, এরপর বিয়ের কথা বলতে গেলে সে যখন আমার গায়ে হাত তোলে, তখন আমি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিই। আমি কারো সঙ্গে পরামর্শ না করেই সরাসরি পুলিশের কাছে গিয়ে ঘটনা খুলে বলি।
আমি পুলিশকে বলি, ‘রুবেল আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমি তার বিরুদ্ধে প্রতারনার মামলাই করতে চাই।’ তখন পুলিশ আমাকে বলে এটা ধর্ষন মামলা হবে। তারপর পুলিশ অফিসার মামলার এজাহার লিখলেন,আমি সাক্ষর করলাম।
মামলা দালেরের পর আমাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলো।
হ্যাপির ভাষ্য, ‘আমি পুলিশকে বলেছিলাম, একজন নারীকে প্রতারণার সংজ্ঞায় যে আইন প্রযোজ্য হয় সে ধারা দিয়েই মামলা নেন। তখন পুলিশ আমাকে বলেছিল, আপনি যা বলছেন তাতে একমাত্র ধর্ষন মামলা হতে পারে। আর ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা করলে সেটাতো টিকবে না। অতএব রুবেলের কিছু করতে হলে আপনাকে ধর্ষন মামলাই করতে হবে। তখন আমি ধর্ষন মামলায় সাক্ষর করি।’
এ বিষয়ে জানতে বিশিষ্ট আইনজীবী তাসলিমা ইয়াসমীন দীপার সঙ্গে কথা হয়। ধর্ষন মামলার ক্ষেত্রে তিনি জানান, একজন নারীকে যখন জোর পুর্বক ধর্ষন করা হয়, তখন ওই নারী মামলা করতে গেলে ৯/১ ধারা প্রযোজ্য হয়।
তিনি আরো বলেন, ‘যদি কারো মতের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গণধর্ষন করা হয়। সেক্ষেত্রে মামলা করতে গেলে ৯/৩ ধারা প্রযোজ্য হবে। প্রতারনার মামলা মানেই ৪২০ ধারা। কিন্তু নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে ৪২০ প্রযোজ্য হবে না। কারণ ওই নারীর সঙ্গে কি ধরণের প্রতারনা হয়েছে, তা আইনের ধারা নির্ধারন করবে। নারীকে প্রতারনা করে যদি সেক্সুয়াল এসাল্ট করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে এটা ধর্ষন মামলা অর্থাৎ ৯/১ প্রযোজ্য হবে। ওই নারীর সঙ্গে যদি অর্থনৈতিক প্রতারনা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ৪২০ অথবা যৌতুক মামলা হতে পারে। অর্থাৎ বিষয়গুলি নির্ভর করবে ঘটনার বর্ণনার ওপর।’
এ বিষয়ে মিরপুর থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ পারভেজ বলেন, নায়িকা হ্যাপি যখন এসে থানায় অভিযোগ করেন এবং ঘটনা খুলে বলেন, তখন তাকে বলা হয়, এটা ধর্ষণ মামলা হবে। আপনার দৃষ্টিতে যা প্রতারনা, নারী নির্যাতন আইনে তা ধর্ষণ। আইনের ভাষায় জোরপুর্বক ধর্ষণ আর আপনার ভাষায় প্রতারনা করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সেক্সুয়াল এসাল্ট। দুটো একই বিষয়। আপনার সঙ্গেতো টাকা নিয়ে প্রতারনা করেনি। এরকম করে থাকলে ৪২০ ধারায় মামলা করেন। তখন হ্যাপি বুঝে সজ্ঞানে মামলার কাগজে সাক্ষর করেন। এখন উনি যদি অস্বীকার করেন, তাহলে করার কিছু নেই। আপনি জলে নামবেন আর কাপড় ভেজাবেন না তা তো হবে না।
এদিকে নায়িকা হ্যাপি পুলিশের প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে নিজ বাসাতেই অবস্থান করছেন। বাসায় থাকলেও পুলিশের কথার বাইরে এই মুহুর্তে কোনো কিছু করতে পারছেন না। অন্তত ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে না আসা পর্যন্ত তাকে পুলিলশর কথা মতো চলতে বলা হয়েছে বলে জানান হ্যাপি।
এক প্রশ্নের জবাবে হ্যাপি বলেন, সকল প্রকার প্রমাণ হাতে নিয়েই আমি মামলা করেছি। প্রশাসনের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, ফরেনসিক রিপোর্টের প্রতিও বিশ্বাস আছে। অতএব আমি সুবিচার অবশ্যই পাব। তবে বলা যায় না, এদেশে সবই সম্ভব। একজন বাঙ্গালী মেয়ে হয়ে যদি আমি সুবিচার না পাই তখন সময় আসলে অন্য চিন্তা করবো। অন্যচিন্তা কি তা এখনই বলার সময় আসেনি।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নায়িকা নাজনিন আক্তার হ্যাপি মিরপুর মডেল থানায় গিয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। সেদিন থেকেই রুবেল হোসেন লাপাত্তা। পুলিশ অথবা মিডিয়ার কেউ আর তাকে খুজে পাননি। এমনকি তার মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। সোমবার দুপুরে জামিন নিতে হাইকোর্টে যান রুবেল।