• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

আজ মহান বিজয় দিবস

34462সিসি নিউজ: আজ মহান বিজয় দিবস। বিজয়- আনন্দের, গৌরবের এবং মাথা তুলে দাঁড়াবার। বাঙালির এ বিজয় বেদনারও। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর কয়েক লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত যে বিজয়- সে তো বেদনার অশ্রুতে সিক্ত হবেই। তবু শত বেদনার মধ্যেও আজ বাঙালির বিজয় উৎসব। ঘরে ঘরে আজ উড়ছে বিজয় কেতন। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত আজকের দিনটি। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষের ভাগ্যাকাশে যে ঘোর অমানিশা নেমে এসেছিল, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর সকালে সে অমানিশা ভেদ করে মুক্ত আকাশে উদিত হয়েছিল একটি নতুন সূর্য। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
আজ থেকে ৪৩ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির দেশপ্রেম, ঐক্য ও শৌর্যবীর্যের কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। এদিন বিকালে ঢাকার তাৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (র্বতমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তি আর মিত্রবাহিনীর সামনে অস্ত্র ফেলে দিয়ে হানাদাররা অবনত মস্তকে দাঁড়ায়। আজকের এ দিনটি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে গৌরবের মহিমায় অনন্য। ১৯৭১ সালে এমন একটি দিনের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনেছে বাঙালি। লড়াই করেছে জীবন বাজি রেখে, ঝরিয়েছে বুুকের তাজা রক্ত। অবশেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাসের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে অর্জন করে চুড়ান্ত বিজয়। প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। দেশের সর্বত্র আজ আনন্দ-উৎসব, শোক ও শ্রদ্ধার এক অপূর্ব সম্মিলনে পালিত হবে জাতীয় জীবনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ এই দিন। নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তার কোনো পরিমাপ হয় না। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে মাটি। ইজ্জত হারিয়েছেন ২ লাখ মা-বোন। বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে জাতি এ যুদ্ধে হারিয়েছে তার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুুদ্ধিজীবীদের।

বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরের সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোর সাড়ে ৬টায় কুয়াশা ভেজা ভোরে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এর ঠিক আট মিনিট আগে ৬টা ২২ মিনিটে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে ৬টা ৪২ ও ৬টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি, তিনবাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।

এর পর জাতীয় পার্টির পক্ষে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়াও জাসদ, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফোরাম, জাতীয় পার্টি, যুবলীগ, যুবদল, যুব ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, কৃষকলীগ, কৃষকদল, কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিএলআরআই, শেখ হাসিনা জাতীয় যুবকেন্দ্র ইত্যাদি সংগঠন এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ