সিসি নিউজ: কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যে ৯ শহীদ বীর সেনার কারণে পাক বাহিনীর কলুষিত পা রৌমারীর মাটিকে স্পর্শ করতে পারেনি। যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হানাদার বাহিনীদের রৌমারীতে ঢুকতে দেয়নি এমনকি তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। আজও জীবনযুদ্ধে লড়াই করে চলেছে সেই ৯ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।
রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে তাদের পরিবারগুলো প্রতিনিয়তই লড়াই করছে অভাবের সঙ্গে। তবুও মেলেনি রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ সবিধা। সরেজমিনে ওই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি ঘুরে এমন করুণ চিত্র দেখা গেছে।
রৌমারী যুদ্ধে যারা শহীদ হন তারা হলেন- কছিবর রহমান, আব্দুল আজিজ খন্দকার, বদিউজ্জামান, আব্দুল মজিদ, আবুল হোসেন, আব্দুল লতিফ, আবু আসাদ, আব্দুল বারী ও আব্দুল হামিদ।
উপজেলার বাইটকামারী গ্রামে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবু আসাদের বাড়ি। তার বাবা হাজী আব্দুর রশীদ ও মা নছিরণ বেওয়া বেঁচে নেই। তবে তার দুই ভাই ও দুই বোন বেঁচে আছেন।
আসাদের ছোট ভাই ফরহাত হোসেন বলেন, ‘আমি তখন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি। ভাই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাশ করার পর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) চাকরি পান। যোগদানপত্র হাতে পাওয়ার পরও তিনি চাকরিতে যোগদান করেননি। দেশ প্রেমে ছুটে যান মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণে। রৌমারী সিজি জামান হাই স্কুল এবং ভারতের কুচবিহালে প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।’
তিনি আরও জানান, আবু আসাদ প্রশিক্ষণ শেষে বাড়িতে আসেন। এ সময় খবর আসে পাক বাহিনী চিলমারী থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে রৌমারীর দিকে আসছে। তখন অক্টোবর মাস। মুক্তি বাহিনীদের সঙ্গে আবু আসাদও নেমে পড়েন প্রতিরোধে। তাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় পাক বাহিনী। পরে তারা দু’ভাগে ভাগ হয়ে ১১ অক্টোবর চিলমারীর অব্দায় পাক বাহিনীর ক্যাম্প আক্রমণ করতে গিয়ে আবু আসাদ নিহত হন। তার লাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরহাত হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকার আমাদের কোনো সম্মাননা দেয়নি। আমাদের ছেলে-মেয়েদের কোনো চাকরিও হয়নি। অভাবের সঙ্গে লড়াই করছি আমরা।’
রৌমারী উপজেলার টাপুরচর গ্রামে আরেক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদের বাড়ি। বাবা জিন্নত উল্লাহ ও মা ফুলজান বেগম বেঁচে না থাকলেও দুই ভাই ও পাঁচ বোন আছেন।
ভাইদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, চিলমারী যুদ্ধে আব্দুল মজিদ পাক বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। তারও লাশ দেখতে পায়নি স্বজনরা। আব্দুল মজিদের স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে বেঁচে আছেন।
তার ছেলে সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের জন্য যুদ্ধ করতে আমার বাবা শহীদ হয়েছেন। এটাই আমাদের গর্ব। তবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সরকারের দেয়া ভাতা তাদের অধিকার।’
একই চিত্র দেখা গেছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার প্রায় সব পরিবারেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদের বলেন, ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মননা দেয়া উচিত। বিশেষ করে তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা সবাই অভাব অনটনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন।’
বাংলামেইল