• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

শিখা সতের: মূল ইতিহাস আজও অজানা

TAMALসুনামগঞ্জ: ছাতকের বধ্যভূমি ‘শিখা সতেরর মূল তথ্য আজও অজানা রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হিসেবে শিখা সতের কালের সাক্ষী হয়ে ওই অঞ্চলের মানুষকে আজও প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে স্থানীয় লোকজন হাতে ফুল নিয়ে এখানে সমবেত হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মাধবপুরের লালপুল এলাকায় দেশের মুক্তিকামী ১৭ জন দামাল ছেলেকে পাকহানাদার বাহিনী জীবন্ত কবর দিয়েছিল। সেই নাম না জানা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে আসা এসব যুবকের দেশপ্রেমের কাছে বাঙালি জাতি আজও কৃতজ্ঞ।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দেয়া তথ্যমতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ১৮ জন উদ্যমী যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে সমবেত হয়। তারা সুনামগঞ্জের সুরমা নদী পথে ছাতকের নোয়ারাই হয়ে ভারতের চেলা এলাকায় প্রশিক্ষণের উদ্দেশে রওনা দেয়। বেতুরা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় রাজাকার ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগী রাজাকাররা মুক্তি পাগল যুবকদের বোকা বানিয়ে হানাদার বাহিনীর হাতে তোলে দেয়। ওই সময় এক যুবক পালাতে সক্ষম হলেও বাকি যুবকদের হাত-পা বেঁধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ছাতক থানায় নিয়ে যায়। সারাদিন বেঁধে রেখে রাতভর অমানবিক নির্যাতন চালায়। পরের দিন সন্ধ্যায় ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের লালপুল এলকায় তাদের নিয়ে আসা হয়। সবাইকে জীবন্ত কবর দেয়ার জন্য একটি বড় গর্ত খনন করা হয়। দাঁড় করানো হয় সারিবন্ধভাবে। মূহূর্তের মধ্যে গর্জে উঠে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মেশিনগান। তাজা রক্তে লাল হয়ে উঠে লালপুল এলাকার সবুজ ঘাস। টেনে হেঁচড়ে তাদের যখন গর্তের মধ্যে ফেলে দেয়া হয় তখনও কারো মৃত্যু নিশ্চিত হয়নি।

এরপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জীবন্ত ১৭ জন দামাল যুবককে নিমর্মভাবে মাটিচাপা দিয়ে নরপশুরা উল্লাসে মেতেছিল। সেইসঙ্গে দেশের আরো ১৭ সূর্যসন্তানের এখানে জীবন্ত সমাধি রচিত হয়। যা আজ দেশের মানুষের কাছে ‘শিখা সতের’ নামে পরিচিত।

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে ১৭ জন মুক্তিকামী যুবকের স্মৃতি নিয়ে স্ব-মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে শিখা সতের। ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী সরকারি অর্থায়নে শিখা সতেরর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ওই সময় ছাতকের সার্কেল অফিসার জমির উদ্দিন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন অবহেলা ও অনাদরে শিখা সতের জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুস সালামের নেতৃত্বে ১৯৯০ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক শিখা সতেরর অবকাঠামো তৈরিতে আর্থিক সহায়তা করেন। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ২০০৭ সালের ২৫ মে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তত্ত্বাবধায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল আলম ও কমান্ডার তোতা মিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিখা সতের গড়ে তোলা হয়।

সর্বশেষ বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন নকশায় শিখা সতের পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ