সিসি ডেস্ক: ‘ভাই, আমরা গরিব মানুষ। ফুলের ব্যবসা করে কোনোরকমে সংসার চালাই। কোনো দিন লাভ হয়, আবার কোনো দিন লোকসান হয়। ঠিক যেন জুয়া খেলা- আজ জিতলেন তো কাল হারবেন।’ এ মন্তব্য শাহবাগের ফুল ব্যবসায়ী জামালের।
তিনি বলেন, ‘বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রায় ২৫ হাজার টাকার ফুল কিনেছি। এর সবগুলো বিক্রি করতে পারলে ভালো একটা লাভ হবে। এখন সবকিছু নির্ভর করছে কাস্টমারের ওপর। যদি আশানুরূপ বিক্রি করতে না পারি- তাহলে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’
১০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করলে কেমন লাভ হয়- জানতে চাইলে জামাল বলেন, ‘আসলে ভিন্ন ফুলের ভিন্ন দাম। সেই হিসেবে লাভেরও তারতম্য হয়। যেমন, ১০ হাজার টাকার গোলাপ ফুল বিক্রি করলে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা লাভ হয়।’
‘তবে মূল সমস্যা হচ্ছে, বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রতিটি দোকানেই ফুল কেনাবেচা শুরু হয়েছে আরো দু-তিন দিন আগে থেকেই। কারণ, বিজয়ের দিন পাইকারি বাজারে এর দাম বেড়ে যাবে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। তাহলে আমরা লাভ করব কি; আর খাবই বা কী? আবার আগে থেকে কিনে রাখলেও ২০-৩০ ভাগ ফুল নষ্ট হয়ে যায়। সেটাও আমাদের জন্য একটা বড় সমস্যা।’- আরো যোগ করেন জামাল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে ফুটপাতের ফুল ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, ‘ফুল বিক্রি করার জন্য আমাদের কোনো দোকান নেই। তাই পেটের দায়ে ফুটপাতেই ফুল বিক্রি করছি। কাল বিজয় দিবস, তাই ফুলের ডালা ও তোড়া তৈরি করছি। একেকটা ফুলের ডালা তৈরি করতে আমার খরচ পড়ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা । এগুলো ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে না পারলে আমার লোকসান হয়ে যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিজয় দিবসের কারণে পাইকারি বিক্রেতারা ফুলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কদিন আগেও যে গাঁদাফুলের ঝুটের দাম ছিল ১৫০ টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। কি করব, আমরাও বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনছি।’
রাজধানীর বেশির ভাগ ফুলই আসে যশোরের গদখালী থেকে। এ ছাড়া সাভারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও আসে কিছু ফুল। এখন শীতকাল হওয়ায় বেড়ে গেছে বিয়েসহ অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান। সে কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ফুল বিক্রিও হচ্ছে বেশি। দোকানগুলোতে বর্তমানে গোলাপ, জবা, রজনীগন্ধা, গাঁদা, অর্কিড প্রভৃতি ফুলের চাহিদা বেশি। যার ফলে এ ফুলগুলোর দামও একটু বেশি।